স্বপ্নের ঘর সাজুক আপনার সাধ্যের মধ্যেই

ঘরটাকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ মিলবে না সহজে। দেয়ালের নতুন রঙ, আলো-ছায়ার খেলা, ইনডোর প্ল্যান্ট বা আসবাবের জায়গা পরিবর্তন করে খুব সহজেই আপনার শান্তির নীড় মনের মতো সাজাতে পারবেন।

অলস, অগোছালো মানুষটাও নিজের জন্য সুন্দর করে সাজানো একখানা ঘর পেলে খুশিই হবেন। কিন্তু ঘর সাজানোর বিশাল আয়োজন করতে গেলে তা যে বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, কারো সাধ্যের বাইরে চলে যায়, তখন? স্বল্প আয়োজনেই আপনার ঘর সাজানো যাবে না, তেমন কোন কথা কিন্তু কেউ বলছে না। গৃহসজ্জা মানেই একগাদা কেনাকাটা করা, চোখ ধাঁধানো অনুষঙ্গ সব বাজার থেকে তুলে এনে ঘর ভরিয়ে ফেলা, দামী কার্পেট, ঝালরকাটা পর্দা এসব নয়। অতিরিক্ত খরচ না করে একটু কৌশল খাটিয়েই আপনার ঘরকে করে তোলা যায় ছিমছাম ও নান্দনিক।

সাধ্যের মধ্যে অন্দরমহল সাজানোর কিছু কার্যকরী উপায়:

দেয়ালে রঙ করা
রঙ নিয়ে এক দফা কাজকর্ম হয়ে যাক ঘরে। দেয়ালের মলিন হয়ে আসা পুরনো রঙকে বিদায় দিন নতুন রঙের ছোঁয়ায়। এক ঘরে রঙের দুই শেড ব্যবহার করে বৈচিত্র্যতা আনুন, দেখতে তো ভালো লাগবেই ঘরের চেহারার একঘেয়েমিও কেটে যাবে।ঘর ইচ্ছে মতন রঙ করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না, বিশেষ করে বাড়ি যাদের নিজেদের নয়। তেমন হলে দেয়ালের বদলে আসবাবপত্র রঙ করার কথা ভাবা যায়। অনেকগুলো দিন একই চেহারা নিয়ে থাকা আসবাবের গায়ে নতুন করে রঙের আঁচড় কেটে তার ভোল পাল্টে দিলে ঘরেও কিন্তু দিব্যি নতুন নতুন ভাব আসবে।

আসবাবের বদল
আসবাবের জায়গা বদল করুন মাঝেসাঝে। তাই বলে আবার খুব ঘনঘন নয়! মাস দুই/তিনেক আসবাবপত্র একই জায়গায় ঝিমাচ্ছে তো তাদের খানিক নাড়াচাড়া করুন। তাদের সাথে আপনার ঘরের ঝিমধরা ভাবটাও কেটে যাবে। খুব বেশি আসবাব ঘরে থেকে থাকলে অপ্রয়োজনীয় কিছু আসবাব সরিয়ে ফেলুন ঘর থেকে। জিনিসের মায়া করে অনেক কিছুই ছাড়তে চায় না মানুষ, কিন্তু ঘরের বোঝা হয়ে কিছু থাকলে তা কিন্তু সমস্যা বটে। বদ্ধ ঘরটাকে যখন আসবাবপত্র কমিয়ে একটু খোলা জায়গা ছেড়ে দেবেন, তাতেই কিন্ত তার রূপ বাড়বে।

বসার ঘরে সাবেকী সোফা সেট আপনার। নতুন সোফা তো আর চট করেই কেনা যায় না। তাহলে বরং কুশনের সেটটা পাল্টে ফেলুন। আগেকার গোলগাল কুশনগুলি বস্তাবন্দী করে ফেলে চারকোনা নতুন কুশন সেট নিয়ে আসুন। হতে পারে এর উল্টোটাও, বাক্স মতন দেখতে কুশনের বদলে ঘরে আনুন গোল দেখতে কুশন সেট। কুশনকভার হোক একদম অন্য নকশায়, অন্য কোন রঙে। আর তারপরে তাকিয়ে দেখুন, পুরনো সোফার মনমরা ভাব কই হারিয়ে গেছে!

আয়না ঝোলানো
আয়না দিয়ে সাজিয়ে তুলুন ঘর। তাতে ঘরে আলোর আনাগোনাও ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। আলোর বিপরীতে আয়না রাখুন, ঘরের ভেতরটা ঝলমলে এবং বেশ খোলামেলা দেখাবে। করিডরেও একটি বড় আয়না কিংবা দুই/তিনটি ছোট আয়না ঝুলিয়ে দেয়া যায়। দেয়ালের গায়ে সাজ হিসেবেও আয়নারা মন্দ নয়।

দেয়ালে স্টিকার লাগানো
দেয়ালে স্টিকার বসিয়ে চট করেই ঘরের চেহারা পাল্টে ফেলা সম্ভব। একেক ঘরে একেক রকম ওয়াল স্টিকার ব্যবহার করুন । অবশ্যই স্টিকার কোন ঘরে ব্যবহার করছেন এবং সেই ঘরে দেয়ালের কী রঙ, তার উপর নির্ভর করবে।ছবি এমন আরেক জিনিস যা ঘর সাজাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। নিজেদের ছবির পাশাপাশি নানা রকম দেয়ালচিত্র ঝুলিয়ে দেয়া যায় ঘরের চারিদিকে। ঘরটা দেখতে হাসিখুশি লাগবে। দেয়ালে কোন নির্দিষ্ট ধরণ বা প্যাটার্ন অনুসরণ করে কতোগুলি ছবি রাখতে পারেন, আবার এলোমেলো ভাবেও রাখতে পারেন। মন্দ লাগবে না কোনটাই।

দেশজ মোটিফের উপস্থিতি
ঘর সাজাতে বেছে নিতে পারেন নানা রকম দেশজ মোটিফ। নকশি পাখা, শীতল পাটি, ডালা, হাড়ি, মাটির পুতুল আরো কতো কিছু রয়েছে আমাদের! এইসব জিনিসের উপস্থিতি আপনার গৃহসজ্জায় প্রাণবন্ত ভাব ফুটিয়ে তুলবে। এগুলোর কোনটাতেই রাজ্যের আয়োজন নেই, নেই খরচের ভারিক্কি। কিন্তু আপনার ঘর সাজাতে কম যাবে না কোনটাই। আবার কখনো ঘরের সাজে মন দেয়ার আগে তাই এই বিষয়গুলি মনে করে নেবেন। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়েই সাজবে আপনার শান্তির নীড়।

পূর্বকোণ/নসরাত/পারভেজ



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews