ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট ক্রিয়েশন এখন আর শুধুই বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি হয়ে উঠেছে ক্যারিয়ার গড়ার শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশেও তরুণদের বড় একটি অংশ এখন সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষ করে নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের সৃজনশীলতা, ব্যক্তিত্ব ও উদ্যোক্তা ভাবনার মাধ্যমে তৈরি করছেন আলাদা অবস্থান।

এমনই একজন পরিচিত মুখ রথি আহমেদ। ফ্যাশন, কুকিং ও লাইফস্টাইলভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি তরুণ দর্শকদের কাছে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও এগিয়ে চলেছেন তিনি।

রথি আহমেদের মতে, বাংলাদেশের মানুষ এখন আগের তুলনায় কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একসময় এটিকে সময় নষ্টের বিষয় মনে করা হলেও বর্তমানে এটি আয়, ব্র্যান্ডিং এবং ব্যবসার বড় মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

তিনি বলেন, “এখন অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করছে, নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করছে, ব্যবসা দাঁড় করাচ্ছে। তরুণদের জন্য এটা এখন বড় সুযোগের জায়গা।”

নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বর্তমান সময়কে সম্ভাবনাময় বলেও মনে করেন তিনি। ফ্যাশন, বিউটি, কুকিং, ট্রাভেল কিংবা লাইফস্টাইল— নানা ক্যাটেগরিতে নারীরা সফলভাবে কাজ করছেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডও এখন নারী ক্রিয়েটরদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে সুযোগের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ট্রোলিং ও সামাজিক বিচার নারী ক্রিয়েটরদের জন্য এখনও বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আসার গল্প বলতে গিয়ে রথি জানান, শুরুটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিকভাবে। ছোটবেলা থেকেই তার হিজাব পরার স্টাইল আলাদা ছিল। পরিচিতরা প্রায়ই তার কাছে টিউটোরিয়াল চাইতেন। প্রথমদিকে ক্যামেরার সামনে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলেও বন্ধুদের উৎসাহে ভিডিও তৈরি শুরু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে যাত্রা শুরু।

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি মনে করেন ধারাবাহিকতা ও নিজস্ব পরিচয় তৈরি করাকে। তার ভাষায়, “এখন সবাই কনটেন্ট তৈরি করছে। তাই শুধু ট্রেন্ড ফলো করলে হবে না। দর্শকদের এমন কিছু দিতে হবে, যাতে মানুষ আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনতে পারে।”

বাংলাদেশের কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন নেগেটিভিটি ও মানসম্মত কনটেন্টের অভাবকে। দ্রুত ভাইরাল হওয়ার প্রবণতায় অনেক সময় এমন কনটেন্ট তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। পাশাপাশি সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে নিজের কাজেই মনোযোগ দিতে চান রথি। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব না। তাই আমি আমার কাজের ওপরই ফোকাস রাখি।”

ফ্যাশন, রান্না ও লাইফস্টাইল— ভিন্ন ভিন্ন বিষয় একসঙ্গে কনটেন্টে রাখার কারণ হিসেবে তিনি জানান, একঘেয়ে কাজ তার পছন্দ নয়। দর্শকদের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য ও উপভোগ্য কনটেন্ট তৈরি করাই তার লক্ষ্য।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন রথি আহমেদ। বর্তমানে তার একটি অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তিনি মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিকে আন্তর্জাতিক মানে দেখতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, দেশে অনেক প্রতিভাবান মানুষ আছেন, যারা সঠিক সুযোগ পেলে বৈশ্বিক পর্যায়েও সফল হতে পারবেন।

নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশ্যে রথির পরামর্শ, “শুধু ভাইরাল হওয়ার জন্য কনটেন্ট তৈরি না করে এমন কিছু তৈরি করুন, যা মানুষের কাজে আসে বা মানুষ উপভোগ করে। ধৈর্য ধরে নিজের পছন্দের কাজ চালিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই।”



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews