আল্লামা সাঈদী (রাহি.)-এর বিরুদ্ধে ন্যায়ভ্রষ্ট রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত দেশব্যাপী বর্বরোচিত গণহত্যার বিচার, নিহতদের স্বীকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এই বর্বরোচিত গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নৃশংস ও কলঙ্কিত অধ্যায়। সেদিন কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও ন্যায়ভ্রষ্ট রায় ঘোষণার প্রতিবাদে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু শান্তিকামী জনতার ওপর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র পেটুয়া বাহিনী মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে এক বর্বরোচিত গণহত্যার সূচনা হয়। স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো এই পৈশাচিক হামলায় সেদিন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭০ জন শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তী কয়েক দিনের টানা রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় এই সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল মূলত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক সুপরিকল্পিত নীলনকশা।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন: ‘নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় থাকার সকল নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।’ তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পৈশাচিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সেই সময় সরকারকে এই দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানালেও ফ্যাসিস্ট সরকার তা উপেক্ষা করে। দুঃখজনক হলেও ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সরকারের আমলেও শহীদ ও আহত পরিবারগুলো আজও ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এমনকি এই খুনিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বিচারহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ।”
ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিটি শহীদের রক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্তনাদ আজও বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত জাতি এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে পারবে না।”
নেতৃবৃন্দ ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক নিরস্ত্র জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যায় শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, হত্যাযজ্ঞের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারে পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।