সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র‍্যান্ড বল রুমে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ  এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‌‘ব্রিজ দ্য গ্যাপ বিটুইন ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারি ইন হার্ট ফেইলিউর’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্স ২৬-এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। 

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন। 

মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদশে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য এনআইসিভিডি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস) প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয় এবং বর্তমানে এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে। হার্টের রোগের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যা পুষ্টিগত গুণাগুণ কিংবা নারী-পুরুষ-ধনী-দরিদ্র কোনো শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হয় না; এই রোগ সবার হয়।

তিনি স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। হৃদরোগসহ বিভিন্ন নন- কমিউনিকেবল ডিজিজ এবং কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে সেই কাঠামোকে আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের কার্ডিওলজির টেকনিক্যাল এক্সপার্ট উল্লেখ করে বলেন, আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে আপনারা হৃদরোগীদের সেবা দেবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন কীভাবে এই সেক্টরে উন্নয়ন হবে। আপনাদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা যারা কার্ডিওলজির ট্রেইনার রয়েছেন তাদের দায়িত্ব নিতে হবে জুনিয়রদের এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষ কার্ডিওলজিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদেরকেই দায়িত্বশীল এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল জুরিখ থেকে আগত প্রফেসর ড. রবার্ট মানকা, যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর থেরেসা এ. ম্যাকডোনাঘ, রয়্যাল প্যাপওর্থ হাসপাতালের অ্যাডভান্সড হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর স্টিফেন পেটিট এবং প্রফেসর ফ্র্যাঙ্ক রুশিৎসকাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক সেশনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্মেলনের প্রাক-আয়োজনে মেডিক্যাল এআই এবং কার্ডিয়াক এমআরআইবিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়া থেকে আগত ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ড. সুতান কাভেরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি ৮০০ জন কার্ডিওলজিস্ট এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। 

বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews