ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফ্রান্স সফর করছেন। সপ্তাহবাপী এ সফরে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় ছাড়াও জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেবেন। জি-৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও মোদীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর ফ্রান্স সফর শুরু হয়েছে নিস শহর থেকে। এখানে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। দুই নেতা মিলে উদ্বোধন করেছেন ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ সম্মেলন। নরেন্দ্র মোদী সেখানে গ্লোবাল এআই সামিটেও অংশ নেন।
এ বছরের শুরুতে ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের পর ভারত-ফ্রান্সের সম্পর্ক বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়। এরপর এই প্রথম দুই শীর্ষ নেতা বৈঠকে বসলেন।
ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মোদীর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রযুক্তি আর উদ্ভাবন ছিল এবারের মোদীর সফরের মূল আগ্রহের জায়গা। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মহাকাশ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
তবে কূটনীতি সবসময় গুরুগম্ভীর আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকে না। হালকা চাল তাতে বাড়তি উষ্ণতা যোগ করে। মোদীর সফর নিয়ে ম্যাক্রোঁর তেমনই এক হালকা চাল দুই দেশকে আরো কাছে আনবে। মোদীর নিস সফরের নানা কর্মসূচির হাইলাইটস নিয়ে বানানো একটি কোলাজ ভিডিও ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-এ শেয়ার করেছেন ম্যাক্রোঁ।
সেই ভিডিও দেখতে গিয়েই চমকে গেছেন সবাই। পেছনে যে বাজছে ’ধুরন্ধর’এর জনপ্রিয় গান ‘আরি আরি’র সুর। ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক টানাপড়েন, জঙ্গীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, গোয়েন্দা ততপরতা নিয়ে বানানো ধুরন্ধর এবং ধুরন্ধর-২ এরই মধ্যে বলিউডে ব্লকবাস্টার হয়েছে।
বলিউডের সেই সুর এখন মিশেছে ফরাসী সৌরভে। ভিডিওটি শুরু হয় দুই নেতার করমর্দন এবং কোলাকুলি দিয়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সেখানে দেখানো হয়। এই হাইলাইটস ভিডিওতে বলিউডের ছোঁয়া এনে ম্যাক্রোঁ উষ্ণতা ও আন্তরিকতায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন। নরেন্দ্র মোদীও বিষয়টি উপভোগ করেছেন এবং ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তবে ম্যাক্রোর বলিউড প্রীতি এবারই প্রথম নয়। বছরের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট তার ভারত সফর শেষ একটি বিদায়ী ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সেখানেও ব্যাকগ্রাউরন্ড বাজছিল ধুরন্ধর-এর সুর।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এই ছোট্ট কিন্তু ব্যতিক্রমি উদ্যোগ ভারত-ফ্রান্সের সম্পর্কে আরো উষ্ণতা ও আন্তরিকতা আনবে। দুই দেশই নিজেদের আরো কাছের মনে করবে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম