দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুস্তাফাবাদ এলাকায় একদল লোক দুই মুসলিম ছাত্রের ওপর নৃশংসভাবে হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হামলার শিকাররা হলেন- ১৭ বছর বয়সী ছাত্র মোহাম্মদ ফয়জান এবং তার বন্ধু, যার নামও ফয়জান।
গত ১৬ মার্চ তুখমিরপুরের ছেলেদের সরকারি স্কুল থেকে বের হওয়ার পর পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের পরিবারের দাবি, ছেলেগুলো তাদের পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার আগে জোহরের নামাজ পড়েছিলেন। রোজাও রেখেছিলেন এবং মাথায় টুপি ছিল। হামলাকারীরা তাদের মুসলিম বলে চিনতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, একদল লোক পেছন থেকে ছাত্রদের কাছে এসে তাদের থামিয়ে নাম জিজ্ঞাসা করে। তাদের মধ্যে থাকা হিন্দু ছাত্রদের শনাক্ত করার পর হামলাকারীরা তাদের আলাদা করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর ওই দুই মুসলিম ছাত্রদেরকে সহিংস আক্রমণের শিকার হতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাদের মারতে লাঠি, ঘুষি, স্ক্রু ড্রাইভার ও অন্যান্য বস্তু ব্যবহার করেছিল।
এতে মোহাম্মদ ফয়জান গুরুতর আহত হন। তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে এতটাই জোরে আঘাত করা হয়েছিল যে তার মাথা একটি পার্ক করা ট্রাকে সজোরে ধাক্কা
খায়, যার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। সে গুরুতর আহত হয়, তার নাক ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং ঠোঁটে বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়।
প্রথমে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু সহপাঠীরা পরে ফিরে এসে পুলিশকে খবর দেয়। আহতদের প্রথমে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফয়জানের ভাই মোহাম্মদ রশিদ বলেন, বাড়ি ফেরার পরও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তিনি বলেন, তার নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছিল না।
তিনি আরো জানান, ফয়জান রোজা রেখেছিল এবং বোর্ড পরীক্ষার কারণে আগে থেকেই মানসিক চাপে ছিল।
তিনি বলেন, তারা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল, রোজা রেখেছিল এবং ঈদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু তার বদলে তাদের ওপর এভাবে হামলা করা হলো। আমরা এর বিচার চাই।