সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজধানীর উত্তরার বিজয়নগর ও শান্তিনগর পল্লীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চন্দ্রবিন্দু পাঠশালা। একসময় যেখানে শিক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না, আজ সেখানে এই পাঠশালা আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ আইইউবিএটি শাখা এবং “২ টাকায় উপহার”-এর সম্মিলিত উদ্যোগে রাজধানীর উত্তরার চন্দ্রবিন্দু পাঠশালায় খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দঘন ও বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব।
এ আয়োজন মুহূর্তেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে তোলে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ, যা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। রং-তুলির ছোঁয়ায় তারা ফুটিয়ে তোলে বৈশাখের চিরচেনা রূপ— গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, মেলা, পাখি, ফুল আর লাল-সাদার আবহ। খুদে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকরা।
শিশুদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে আয়োজন করা হয় মজার বালিশ খেলা, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পাশাপাশি বৈশাখের ঐতিহ্যকে আরও জীবন্ত করে তুলতে শিশুদের মুখে করা হয় আকর্ষণীয় ফেইস আর্ট, যা তাদের আনন্দে যোগ করে বাড়তি রঙিন মাত্রা।
পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল শিশুদের হাসি, উচ্ছ্বাস আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি। আয়োজকরাও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের আনন্দে শরিক হন, যা অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক মানবিক ও আন্তরিক আবহ।
অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয় খাবার ও উপহার সামগ্রী। এসব উপহার পেয়ে শিশুদের আনন্দ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম তিনজন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ আইইউবিএটি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাফিজ হাসান বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহম্মেদ ফাহিম বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক।”
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ এলাহী অপু বলেন, “এই আয়োজন আমাদের জন্যও আনন্দের। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অন্যদিকে “২ টাকায় উপহার”-এর পক্ষ থেকে মমিনুল হক রাহাদ বলেন, “স্বল্প সামর্থ্যের মধ্যেও যদি আমরা শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি, সেটাই আমাদের সাফল্য।”
সাজিদ আল আহাদ বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আনন্দ দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। তারা আয়োজকদের এমন মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। চন্দ্রবিন্দু পাঠশালায় অনুষ্ঠিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক স্মরণীয় ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা— যা নতুন বছরের সূচনাকে করেছে আরও অর্থবহ ও আলোকিত।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ