সাধারণত দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় হয় এবং এটি একটি ধ্রুব সত্য। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, মানুষের যাপিত জীবন আর পরিবেশের ওপর আমাদের হস্তক্ষেপ এখন আর কেবল তাপমাত্রা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আক্ষরিক অর্থেই পুরো পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিকে মন্থর করে দিচ্ছে। সহজ কথায়, আমরা অজান্তেই প্রিয় গ্রহটির ঘোরার ছন্দ বদলে দিচ্ছি, যার ফলে পৃথিবীর দিনগুলো আগের চেয়ে দীর্ঘতর হয়ে উঠছে!

সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বিশালাকার হিমবাহ এবং বরফের চাদর গলে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর ভরের একটি বড় অংশ মেরু থেকে বিষুবরেখার দিকে সরে আসছে। এই ভর-পুনর্বণ্টন পৃথিবীকে তার মধ্যভাগে আরো কিছুটা স্ফীত করে তুলছে।

কেন এমন ঘটছে?

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফের পাহাড়গুলো আশঙ্কাজনক হারে গলছে। এই বিপুল পরিমাণ পানি এখন মেরু অঞ্চল থেকে সরে এসে পৃথিবীর মাঝখানের অংশ বা বিষুবরেখার দিকে জমা হচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর ভরের যে পরিবর্তন ঘটছে, তা গ্রহটির ঘূর্ণন গতিকে কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টিকে অনেকটা একজন ‘আইস স্কেটারের’ সাথে তুলনা করা যায়। তিনি যখন নিজের হাত শরীরের সাথে গুটিয়ে রাখেন, তখন খুব দ্রুত ঘুরতে পারেন; কিন্তু হাত দু’টি দুই পাশে প্রসারিত করলেই তার ঘোরার গতি কমে যায়। ঠিক একইভাবে, পৃথিবীর মাঝখানের অংশ ভারী হয়ে যাওয়ায় এটি আগের চেয়ে ধীরে ঘুরছে।

গবেষণার তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার

ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইটিএইচ জুরিখের গবেষকরা এ বিস্ময়কর তথ্যটি বের করেছেন প্রায় ৪০ লক্ষ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে। তারা এজন্য সমুদ্রের তলদেশের ‘ফোরামিনিফেরা’ নামক অতি ক্ষুদ্র অণুজীবের জীবাশ্ম পরীক্ষা করেছেন। এই জীবাশ্মগুলো অনেকটা প্রাকৃতিক মেমোরি কার্ডের মতো কাজ করে, যার ভেতরে প্রাচীন সমুদ্রের উচ্চতা এবং জলবায়ুর ইতিহাস জমা থাকে। গবেষকরা এই তথ্যের সাথে উন্নত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন যে বর্তমানে প্রতি শতাব্দীতে দিনের দৈর্ঘ্য গড়ে ১.৩৩ মিলিসেকেন্ড হারে বাড়ছে। গত ৩৬ লক্ষ বছরের মধ্যে পৃথিবীর ঘূর্ণনে এমন দ্রুত পরিবর্তন আগে কখনো দেখা যায়নি।

আমাদের ওপর এর প্রভাব কী?

দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ার এই প্রভাব আপাতদৃষ্টিতে খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল বিশ্বে এর গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি নিখুঁত সময় বা ন্যানোসেকেন্ডের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সময়ের এই সূক্ষ্মতম পরিবর্তনের ফলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বা মহাকাশ গবেষণার যানগুলো দিক হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই পরিবর্তনের হার এতই বেশি ছিল যে তা প্রাকৃতিকভাবে দিন বড় হওয়ার কারণ ‘চাঁদের আকর্ষণ’কেও ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শেষকথা

বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা আমাদের সামনে এক রূঢ় সত্য তুলে ধরেছে। মানুষ এখন আর কেবল পৃথিবীর সম্পদের ব্যবহারকারী নয়, বরং আমরা এমন এক শক্তিতে পরিণত হয়েছি; যা একটি আস্ত গ্রহের মৌলিক চলনকেও প্রভাবিত করতে পারে। দিনের এই বেড়ে যাওয়া সময়টুকু হয়তো আমাদের কাজের ব্যস্ততাকেই কিছুটা দীর্ঘায়িত করবে। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি বড় সতর্কবার্তা!



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews