তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা এবং মনোজগৎ নির্মাণের শক্তিশালী মাধ্যম। সৃষ্টিশীল কাজ- হোক তা চলচ্চিত্র বা বই, মানুষের চিন্তায় গভীর পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ ঘটাতে সক্ষম। জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে গতকাল সত্যজিৎ রায় উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনের যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বাড়ে, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈন উদ্দিন খালেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ, চলচ্চিত্র বিশ্লেষক বিধান রিবেরু প্রমুখ বক্তৃতা করেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কমিউনিকেশন ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমাজে মানুষের মনোজগৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের কাজের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের চিন্তার কাঠামো তৈরি হয় এবং সমাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম হয়। তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭-এর ভারত ভাগ আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে এ ঐতিহাসিক প্রভাব যেন চিন্তার স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
এ সময় তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং তরুণদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তথ্যমন্ত্রী সত্যজিৎ রায়ের মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবোধকে ধারণ ও চর্চার মাধ্যমে সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান।