চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চার দশক আগে চালু হওয়া আন্তঃনগর ‘মেঘনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের অবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে। ইঞ্জিনে ত্রুটি, নিম্নমানের বগি, বসার সিটের কাহিল অবস্থা, ভাঙা দরজা-জানালা, ওয়াশরুম ব্যবহার অনুপযোগী, পুরোনো সিলিংফ্যান-জোড়াতালি দিয়ে চলছে মেঘনা। তীব্র গরমে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। এমন সব সমস্যা নিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনটি অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া এ ট্রেনটি একসময় রেলের যাত্রী ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে দেশের আন্তঃনগরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও এখন আর কারও নজর নেই। চাঁদপুরগামী এ ট্রেনটির প্রতি রেল বিভাগের অবহেলা ও উদাসীনতাই এর জন্য দায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দেশে রেলের ইঞ্জিনের সংকট চলছে। পুরোনো ইঞ্জিনগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু না হওয়াসহ সব লোকাল ট্রেন বন্ধ করার পাশাপাশি পিক আওয়ারের ট্রেন বন্ধ থাকায় নাজুক হয়ে পড়েছে এ লাইনটি। ফলে এ লাইনে যাত্রীদের আগ্রহও কমেছে। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা হয়ে সড়কপথে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত বেড়েছে। তবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের যাত্রীদের কাছে এখনো চাঁদপুর রুট গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো ট্রেন না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে ঢাকা হয়ে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এখন প্রায় প্রতিদিন মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। চলতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার পরপর দুদিন ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় বিকল্প ইঞ্জিন এনে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে। এই দুদিন রাত সাড়ে ৯টার স্থলে রাত দেড়টায় চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর এসে পৌঁছায় মেঘনা এক্সপ্রেস। এমন অবস্থা সপ্তাহে ৪-৫ দিন হচ্ছে।
একসময় লাকসাম-চাঁদপুর রুট হয়ে বিভিন্ন রেলপথে প্রতিদিন ১০-১২ জোড়া ট্রেন চলাচল করত। ধাপে ধাপে ট্রেন কমে বর্তমানে শুধু চাঁদপুর-চট্টগ্রাম লাইনে মাত্র দুটি ট্রেন-সাগরিকা এক্সপ্রেস কমিউটার ও আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস চলাচল করছে। এর মধ্যে সাগরিকা ট্রেনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।
রেলের তথ্যমতে, আন্তঃনগর সার্ভিস চালুর পর যাত্রী ও আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মেঘনা এক্সপ্রেস। মেঘনা এক্সপ্রেস আয় করত ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। ট্রেন কমে যাওয়া এবং সেবার মানে চরম অবনতির কারণে এই রুটে এখন যাত্রী স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের একটি বড় অংশ এই রুটের মেঘনা এক্সপ্রেসে চলাচল করে থাকে। অথচ চাহিদা থাকা সত্ত্বেও চাঁদপুর-লাকসাম রুটে রেলের বিনিয়োগ সীমিত। নতুন ট্রেন চালু হয়নি। বরং বিদ্যমান ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। সময়সূচির অসামঞ্জস্য ও ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে অনেক সময় গভীর রাতে ট্রেনটি চাঁদপুর পৌঁছায়। এতে যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কমছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ট্রেনের এই দুরবস্থার কারণে চাঁদপুর হয়ে ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চেও যাত্রী হ্রাসে প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের ইঞ্জিন সংকট চলছে। আমরা চেষ্টা করছি এ লাইনে ভালো কিছু কোচ দেওয়ার। এজন্য যান্ত্রিক বিভাগকে বলেছি, একটা কিছু অবশ্যই হবে।