হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নতুন করে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের নির্ধারিত নৌপথ ও সামরিক নির্দেশনা অমান্য করে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা মধ্যস্থতাকারী কাতার জানালেও এর মধ্যেই ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এই কঠোর অবস্থান ঘোষণা করল।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত নৌপথ থেকে বিচ্যুতি বা নৌ চলাচলের প্রোটোকল লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলা করবে। নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বাহরাইনে আয়োজিত একটি নিরাপত্তা সংলাপে অংশ নেয়া আঞ্চলিক নেতারা হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সেন্টকমের ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৈধ কর্তৃত্ব এই ধরনের কোনো ফোরামের নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে সংঘাতের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে তেহরান প্রতিশ্রুতি দিলেও একই সঙ্গে উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করা জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।

নৌযান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্র্যাফিক জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর ও পানামার পতাকাবাহী দুটি জাহাজে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনাসহ অধিকাংশ হামলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর নৌপথে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। তারপরও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় তা এখনও অনেক কম। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে ৪৫টি জাহাজ, আর মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ৩৪। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করত।

সূত্র: আল জাজিরা



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews