দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার পর অনেকেরই পা ভারী লাগে বা কিছুটা ফুলে যায়। অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ করা, দীর্ঘ ভ্রমণ বা খুব কম নড়াচড়া করার কারণে এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সব সময় এটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কখনো কখনো এটি শরীরের ভেতরের অন্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পা ফুলে যাওয়াকে সাধারণত এডিমা বলা হয়। শরীরের টিস্যুতে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে এমনটা হয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পায়ের নিচের অংশে রক্ত ও তরল জমে থাকতে পারে, কারণ তখন পায়ের পেশিগুলো ঠিকভাবে কাজ করে না এবং রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়।
প্রথম কারণ হলো রক্তসঞ্চালন ধীর হয়ে যাওয়া। যখন আমরা অনেকক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকি, তখন পায়ের পেশি সংকুচিত হয় না। ফলে শিরার মাধ্যমে রক্ত উপরের দিকে ফিরে যেতে বাধা পায়। এতে পায়ের নিচের অংশে তরল জমে ফুলে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, শরীরে লবণ বেশি থাকলেও এমন সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে পা বা গোড়ালিতে ফোলা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘ ভ্রমণ, বিশেষ করে বিমান বা বাসে দীর্ঘ সময় বসে থাকার সময়ও এই সমস্যা দেখা যায়। এটিকে অনেক সময় ট্রাভেল এডিমা বলা হয়।
সব সময় পা ফুলে যাওয়া সাধারণ বিষয় নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে।
১. কিডনি রোগ: কিডনি যখন শরীর থেকে বাড়তি লবণ ও পানি বের করতে পারে না, তখন পায়ের পাশাপাশি মুখও ফুলতে পারে।
২. হৃদরোগ: হার্ট যদি ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারে, তবে রক্ত ও তরল পায়ে জমে যায়।
৩. ভেরিকোজ ভেইন: পায়ের শিরার ভালভ দুর্বল হয়ে গেলে রক্ত ঠিকমতো হৃদপিণ্ডে ফিরতে পারে না, যা থেকে পা ফুলে যায়।
৪. ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে পা ফুলে যেতে পারে। এটি সাধারণত এক পায়ে হয় এবং ব্যথাদায়ক হতে পারে।
৫. অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা: শরীরে হিমোগ্লোবিন অনেক কমে গেলেও পা ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পরপর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করা ভালো। এতে পায়ের পেশি সক্রিয় থাকে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
পা একটু উঁচু করে বসা বা শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ দেওয়া উপকারী হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করা, লবণ কম খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পা হঠাৎ খুব বেশি ফুলে গেলে, ব্যথা বা লালচে ভাব থাকলে, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পা ফুলে গেলে বা ফোলা কয়েকদিন ধরে না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীরের ছোট পরিবর্তন অনেক সময় বড় সমস্যার সংকেত দেয়। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস থাকলে মাঝেমধ্যে নড়াচড়া করা এবং শরীরের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট
এএমপি/এএসএম