নাটোর শহরের মল্লিকহাটি এলাকায় নতুন বাড়ির সিঁড়ির নিচে থাকা পানির ট্যাংকের ভেতরে পড়ে জুলাই শহীদ ইয়াসিন আলীর বাবা ফজের আলীর (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে শহরের মল্লিকহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের পর থেকে ফজের আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তার স্ত্রী নতুন নির্মিত বাড়িতে গিয়ে সিঁড়ির নিচে থাকা পানির ট্যাংকের ভেতর ফজের আলীর লাশ দেখতে পান।
এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পানির ট্যাংক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, পানির ট্যাংকের ভেতরে ময়লা জমেছে কি-না তা দেখতে গিয়ে ফজের আলী দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে সৃষ্ট কোনো গ্যাসের প্রভাবেও তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির ট্যাংকের মুখ খুলে ভেতরে ময়লা আছে কি-না দেখতে গিয়ে তিনি ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে সৃষ্ট কোনো গ্যাসের প্রভাবে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ বিষয়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না।
এদিকে, ফজের আলীর মৃত্যুতে নাটোর জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নেতৃবৃন্দ মরহুম ফজের আলীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তার সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের জন্য দোয়া করেন।
রাত ১০টার দিকে নাটোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তাকে বড়াদরগাহ গোরস্থানে তার ছেলে জুলাই শহীদ ইয়াসিনের কবরের পাশে দাফন করা হবে।