বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন দুঃসময় অতিক্রম করছে তখন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেছেন। এটি দেশের ইতিহাসে যেমন সবচেয়ে বড় বাজেট, তেমনি সবচেয়ে বেশি ঘাটতির বাজেটও। করোনা মহামারির পর ইউক্রেন, গাজা ও ইরান যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধকলে লন্ডভন্ড হয়েছে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমরা জার্মানির দিকে তাকাতে পারি। যারা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উড়াল দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে।
জার্মানিকে বলা হয় ‘ল্যান্ড অব আইডিয়াস’ অর্থাৎ চিন্তা ও উদ্ভাবনের দেশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম তীর্থস্থান এই দেশটি। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যুগান্তকারী অবদান রাখা অসংখ্য মহান বিজ্ঞানী ও মনীষীর জন্মভূমি এই জার্মানি। এই তালিকার শীর্ষ অবস্থানে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রথমেই যে নামটি আসে, তা হলো আলবার্ট আইনস্টাইন, যিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তারপরই রয়েছেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক, ভার্নার হাইজেনবার্গ ও জোহানেস কেপলারের মতো বিশ্বখ্যাত কালজয়ী ও যুগান্তকারী বিজ্ঞানীরা। আধুনিক বিশ্বের যেসব প্রযুক্তি আজ মানবজীবনকে বদলে দিয়েছে তার অনেকগুলোর গবেষণা ও উন্নয়নের সূতিকাগারও এই জার্মানি। একটি প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা, উদ্ভাবনপ্রিয় সংস্কৃতি এবং শক্তিশালী শিক্ষা অবকাঠামো- সবকিছু মিলিয়ে জার্মানি হয়ে উঠেছে আধুনিক জ্ঞানের এক শক্ত ঘাঁটি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্বপ্ন পূরণের জন্য জার্মানি হতে পারে বিশ্বের যেকোনো শিক্ষার্থীর কাক্সিক্ষত গন্তব্য।
২. উচ্চশিক্ষা এবং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য জার্মানি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম শীর্ষ পছন্দের একটি দেশ। বিনামূল্যে বা অত্যন্ত স্বল্প খরচে মানসম্মত পড়ালেখা, উন্নত জীবনযাত্রা এবং পড়ালেখার পাশাপাশি কাজের ব্যাপক সুযোগসুবিধা থাকায় প্রতি বছর অসংখ্য ছেলেমেয়ে সেখানে পাড়ি জমাচ্ছে। জার্মানির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশির ভাগ ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা বা বছরে ১২০ দিন কাজ করার সুযোগ পান, যা দিয়ে নিজেদের হাতখরচ ও থাকাখাওয়ার খরচ অনায়াসে চালানো যায়। পড়াশোনা শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার জন্য সাধারণত ১৮ মাসের ভিসা পান। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর স্থায়ীভাবে বসবাস এবং ভালো ক্যারিয়ার গড়ার চমৎকার সুযোগ রয়েছে দেশটিতে।
৩. ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার ধারণা ও প্রসারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ইউনূস সেন্টারের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ‘আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা শীর্ষ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুরূপভাবে জার্মানির বার্লিন শহরে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক ব্যবসা শীর্ষ সম্মেলন’-এ উপস্থিত থাকার সুযোগ হয় আমার। আর তখনই দেশটির আর্থিক কাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্প-সংস্কৃতি ও তাদের জীবনপ্রণালি খুব কাছে থেকে দেখি। ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি ছিল খুব চমৎকার ও সমৃদ্ধিশালী একটি সুযোগ! জার্মানির মতো এত উন্নত ও সুশৃঙ্খল দেশে ব্যক্তিগতভাবে ঘুরে বেড়ানো, সময় কাটানো এবং সেখানকার জীবনধারাকে কাছে থেকে দেখা ও উপলব্ধি করার বিষয়টি আমার মনকে এখনো নাড়া দেয় । তা-ই তো স্মৃতির রেশ মনজুড়ে উজ্জ্বল। আমার লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
৪. জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর তীব্র সংকট মোকাবিলায় অভিবাসন ও নাগরিকত্বের নিয়মে ব্যাপক শিথিলতা আনা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকরা এখন দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং দ্রুত পাসপোর্টের সুযোগ পাচ্ছেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমাও হ্রাস করা হয়েছে অর্থাৎ জার্মানিতে আইনসম্মতভাবে নিয়মিত ৮ বছর বসবাসের পরিবর্তে এখন মাত্র ৫ বছর থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। বিশেষ কৃতিত্ব বা ভাষার ওপর অসাধারণ দক্ষতা (যেমন দ্রুত জার্মান ভাষা শেখা) থাকলে মাত্র ৩ বছর বসবাসের পরেই নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। ২০২৫ সালে জার্মানিতে ইতিহাসের রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অর্থাৎ ওই বছর ৩ লাখেরও অধিক অভিবাসী জার্মানির পাসপোর্ট অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া জার্মানিতে জন্ম নেওয়া অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তানরা এখন থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সুবিধা পাবেন। আগে নিজ দেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে তবেই জার্মানির নাগরিকত্ব নিতে হতো। নতুন নিয়মে নিজ দেশের পাসপোর্ট বহাল রেখেই জার্মানির নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট নেওয়া যাচ্ছে। পয়েন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কানাডার আদলে ‘অপরচুনিটি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর ফলে ভিসা ছাড়াই কাজের সন্ধানে জার্মানিতে যাওয়ার এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস সত্যিই এক বিস্ময়কর ঘটনা। যুদ্ধ শেষে দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। খাদ্যাভাব ও মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে এবং দেশটির উৎপাদনক্ষমতা শূন্যের কোটায় নেমে আসে। পরাজিত দেশ হিসেবে জার্মানি বিজয়ী মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি নামে দুটি নতুন রাষ্ট্র গঠিত হয়। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিকে বিভক্ত করার জন্য একটি প্রাচীরও নির্মাণ করা হয় যাকে বলা হয় বার্লিন প্রাচীর। পরবর্তী সময়ে অবশ্য পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির এই বিভক্তি বা বিভাজন আর থাকেনি। অর্থাৎ বার্লিন প্রাচীরের পতনের মাধ্যমে দুই জার্মানির পুনর্মিলন হয়।
৬. যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানিকে পুনর্গঠনে সহায়তা দেয়। আর তখনই জার্মানি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। জার্মানদের কঠোর অধ্যবসায় এবং তাদের কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির কর্মীরা দ্রুত উৎপাদনব্যবস্থা পুনরায় গড়ে তোলে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমেই জার্মানি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছে।
৭. মোটরগাড়ির উদ্ভাবক দেশ জার্মানি যা বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলগত গুণমান, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জন্য বিখ্যাত। বিশ্ববাজারে দামি ও মানসম্মত গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে জার্মানির তৈরি গাড়িগুলো সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যেমন মার্সিডিজ বেঞ্জ; বিলাসিতা ও উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বসেরা একটি গাড়ি।
বিএমডব্লিউ; চমৎকার ইঞ্জিন পারফরম্যান্স ও দীর্ঘ যাত্রার জন্য আরামদায়ক যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। অডি; নজরকাড়া ডিজাইন ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মিশেল। ভক্সওয়াগন; যাকে বলা হয় ‘জনগণের গাড়ি’। এটি সাধারণ ও সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে দারুণ নির্ভরযোগ্য একটি গাড়ি। পোরশে; বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় লাক্সারি ও স্পোর্টস কার।
৮. গতি, নিরাপত্তা ও বিলাস, এই তিনের সমন্বয়ে মোটরগাড়ির জগতে রোমাঞ্চ জাগায় ‘বিগ থ্রি’ নামটি। এটি অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি আর বিএমডব্লিউকে প্রায় সবাই চেনে। এই তিন প্রতিষ্ঠানকে একত্রে বলে বিগ থ্রি। শুধু কি বিগ থ্রি? মোটরগাড়ির উদ্ভাবক দেশ জার্মানিতে তৈরি হয় পোরশের মতো বিলাসবহুল এবং ভক্সওয়াগনের মতো জনপ্রিয় গাড়িও। ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ১০টি মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকার ৪টিই জার্মানির।
হিটলারের শীর্ষ পছন্দের তালিকায় ছিল জার্মানির এই মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি। তাই তাঁর উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া শুরু করে জার্মানির অটোমোবাইল শিল্প। তাঁর এই পৃষ্ঠপোষকতার ফলে জার্মানির আভিজাত্যের অংশ হয়ে ওঠে এ গাড়িগুলো।
৯. জার্মানি মনে করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাই তাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাদের বিখ্যাত ‘ডুয়েল এডুকেশন’ মডেলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং কর্মক্ষেত্রে সরাসরি কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এই পদ্ধতিতে পড়াশোনার পাশাপাশি হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার আগেই চাকরির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অর্ধেক সময় স্কুলে এবং বাকি অর্ধেক সময় কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে হয়। জার্মানি আরও মনে করে, কারিগরিভাবে দক্ষ জনবলের কারণেই তারা গাড়ি তৈরি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কারিগরি পেশাজীবীদের সেখানে অত্যন্ত সম্মানজনক চোখে দেখা হয় এবং তারা সাধারণ চাকরিজীবীদের মতোই ভালো আয় করে থাকে। কারিগরি শিক্ষার প্রতি এই সর্বোচ্চ গুরুত্বই জার্মানিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
১০. বর্তমান সময়ে কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা যে কতটা বেড়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। দক্ষ জনশক্তি তৈরি না হওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে। প্রবাসেও দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রথাগত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে বটে কিন্তু পেশাগত জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা কতটুকু অর্জিত হচ্ছে তা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাচ্ছে।
১১. কারিগরি শিক্ষা হলো এমন একটি ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, যা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনো পেশায় হাতেকলমে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। এটি বেকারত্ব দূর করতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি। হাতেকলমে দক্ষতা থাকায় সহজেই বিভিন্ন শিল্পকারখানা বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া যায়। এই শিক্ষা গ্রহণের পর কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় না। নিজস্ব পুঁজি বা স্বল্প বিনিয়োগে ছোটবড় ওয়ার্কশপ, ল্যাব বা সার্ভিসিং সেন্টার দিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়া যায় এবং অন্যের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করা যায় । কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে এটি মানুষের আয় বৃদ্ধি করে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করে যা সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে।
১২. বস্তুত উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যেমন জাপান, জার্মানি, চীন এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশেও প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার সময় এসেছে। বর্তমান সময়ে পৃথিবীকে ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বলা হয়। সে হিসেবে পৃথিবী যেভাবে এগোচ্ছে তার সঙ্গে আমাদেরও তাল মিলিয়ে চলা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমরা পারছি না। কারণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় গুণগত ঘাটতি, পর্যাপ্ত ল্যাব ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাক্রমের অসামঞ্জস্যতাই এর প্রধান কারণ। যার জন্য আমরা এর সুফল গ্রহণ করতে পারছি না।
১৩. কিন্তু দীর্ঘদিন এমন অব্যবস্থাপনা জিইয়ে রাখা ঠিক নয়। এজন্য যথোপযুক্ত পরিকল্পনার ভিত্তিতে দেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছি। আমরা প্রত্যাশা করব, সময়ের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটিই আমাদের কাম্য।
♦ লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক