প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করেছে। এক. দেশের কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং দৈনন্দিন লেনদেন চালু রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব ব্যাংককে রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ও বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে পাওয়া সুদ বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।
এখানে বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বাড়লেও এর একটি অংশ এসেছে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা থেকে। ব্যাংকগুলো শক্তিশালী ও সুশাসিত হলে এত বিপুল জরুরি তারল্য সহায়তার প্রয়োজন কিন্তু হতো না।
দুই. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে। বছরের অধিকাংশ সময় নীতি সুদহার উঁচু থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের ওপর ব্যাংকগুলোকে বেশি সুদ দিতে হয়েছে। ফলে ঋণ ও তারল্য সহায়তা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বেড়েছে। সরকারকে দেওয়া ঋণ ও সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ থেকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ পেয়েছে। রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক অর্থায়নে ঘাটতি থাকায় সরকারকে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিতে হয়েছে। একই সময়ে সরকারি সিকিউরিটিজের সুদহারও উঁচু ছিল। অর্থাৎ উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় অনুসরণ করা সুদহার নীতিও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তিন. বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত, বিদেশি সরকারি বন্ড এবং অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি নিরাপদ আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ করে। আন্তর্জাতিক সুদহার আগের কয়েক বছরের তুলনায় উঁচু থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকেও ভালো আয় হয়েছে।