ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে একটি সংরক্ষিত বাহিনীকে প্রত্যাহার করেছে। এক ইসরায়েলি সেনা ক্যামেরায় ধারণ করা এক ভিডিওতে তাদের ইউনিটটির কর্মকা-কে প্রতিশোধমূলক বলে উল্লেখ করতে শোনা যাওয়ার পর, ওই অঞ্চলে তাদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সমালোচনার মুখে ইসরায়েল এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মার্চের শুরুর দিকে প্যালেস্টাইনের তায়াসির গ্রামে, যেখানে সিএনএন-এর একদল সাংবাদিক একটি জোরপূর্বক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ঘটনা ধারণ করছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৈন্যরা সাংবাদিকদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটক রাখে এবং তাদের এক ক্যামেরাম্যানকে গলা চেপে ধরা হয়। আটকের সময় সিএএনএন-এর ধারণ করা ভিডিওতে এক সৈন্য বলেন, আটকের সময়, এক সেনা ভিডিওতে বলেন যে পুরো পশ্চিম তীর ইহুদিদের এবং সৈন্যরা ২১শে মার্চ এক ইসরায়েলি কিশোরের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এক ফিলিস্তিনির চালানো গাড়ির সাথে সংঘর্ষে ওই কিশোর নিহত হয়েছিল।
সোমবার জারি করা এক বিবৃতিতে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে, অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের জন্য সংরক্ষিত বাহিনীটিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ইউনিটটি মূলত নেৎজা ইয়েহুদা ব্যাটালিয়নের প্রাক্তন সদস্যদের নিয়ে গঠিত, যা অতীতেও ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের কারণে সমালোচিত হয়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই ইউনিটের বিরুদ্ধে লেহি আইনের অধীনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করেছিল, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত বিদেশি সামরিক ইউনিটকে সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জো বাইডেন প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর আগে ২০২২ সালে এই ইউনিটের সদস্যদের হাতে এক ৭৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল, যখন তাদেও হাতে আটক, মুখ বাঁধা এবং হাতকড়া পরা অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নিহত হন।