সেই পাকিস্তান আমল থেকে সাবেক পূর্ব বাংলার মানুষকে একটি তিক্ত বটিকা সেবন করানোর অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু যারা সে চেষ্টা করেছে তারা সফল হতে পারেনি। তবে বলতেই হবে যে, তাদের প্রোপাগান্ডা অত্যন্ত সুসংগঠিত। প্রথমে পূর্ব বাংলা পরে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ এবং বামপন্থী ঘরানার সংগঠন এবং বিভিন্ন অংগ সংগঠন থেকে প্রচার করা হয়েছে যে, ইংরেজ এবং মুসলিম সাম্প্রদায়িক শক্তির ষড়যন্ত্রে ব্রিটিশরা ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি করে ভারত ভেঙেছে। এ বয়ান সব মানুষ খায়নি। তার পর বলা হলো যে, যে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত দ্বিখণ্ডিত হয়েছে, যা ছিলো চরম সাম্প্রদায়িক। এই ধরনের প্রচারণা আমি যখন বগুড়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ি তখন ছাত্র ইউনিয়নের দূর্গাদাস ভট্টাচার্র্য এবং রহিম চৌধুরী আমাদের স্কুলে এসে ওইসব কথা বলে তাদের ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতো। একই ধরনের প্রচারণা শুনতে পাই যখন বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি।
যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম তখন ছাত্রলীগের সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি এবং ছাত্র ইউনিয়নের জিয়াউদ্দিনরা জোরে শোরে প্রচার করতেন যে, ভারত বিভাগ ভুল হয়েছে। এর সাথে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি ইস্যুও প্রধান প্রচারণার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সেখানেই উপ্ত হয় বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের বীজ।
এসব প্রচারণার মাঝেই এসে যায় মুক্তিযুদ্ধ এবং অভ্যুদ্বয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান মুজিববাদী ছাত্রলীগের সমাবেশে বক্তৃতা প্রসঙ্গে বলেন, যখন ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলো এবং তার ফলে বাংলা ভাগ হলো তখন আমি কলকাতায় ছাত্রদের বেকার হোস্টেলে থাকতাম। আমি আমার বন্ধুবান্ধবদের তখন বলেছিলাম যে, ৪৭ সালে ভারত বিভাগের ফলে বাঙ্গালীরা শেষ হয়ে গেলো। অথচ, সেই একই শেখ মুজিবুর রহমান তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে’ একাধিক স্থানে লিখেছেন যে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলা তথা ভারতের মুসলমানরা শেষ হয়ে যাবে। একই নেতার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ডকুমেন্ট এই কলামিস্টের কাছে মওজুদ আছে। কেউ চ্যালেঞ্জ করলে আমি সেগুলো ইনকিলাবের এই কলামে উদ্ধৃত করবো।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ঝাড়ে বংশে বিতাড়িত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের নায়করা ওই বিপ্লবের সঠিক ন্যারেটিভ দেন। তারা বলেন যে, একটি জাতির জীবনে এমন কতগুলো ঘটনা ঘটে যেগুলো ঘটে ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতিতে। ব্রিটিশ আমলে হিন্দুরা ইংরেজ শাসকদের সাথে সর্বক্ষণ আঁতাত করেছিলো। এই আঁতাতের ফলে সমগ্র ভারত এবং বিশেষ করে বাংলার পূর্বাঞ্চলের (তখন দুই বাংলা অখণ্ড ছিলো) মুসলমানরা বঞ্চিত ও উপেক্ষিত ছিল। সেই বঞ্চনা দূর করার অনিবার্য পরিণতি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ।
পাকিস্তান হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষক গোষ্ঠি পূর্ব বাংলার মুসলমানদের বঞ্চিত এবং উপেক্ষিত রাখে। তারই অনিবার্য পরিণতিতে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আলাদা হয়ে যায় এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে জন্মলাভ করে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একদিকে ভারতীয়রা বাংলাদেশের প্রভু সাজে, অন্যদিকে ভারতের সক্রিয় মদদ পুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগ একদিকে ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসন কায়েম করে অন্যদিকে সেই স্বৈরাশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য বিরোধী দলের ওপর ভয়াবহ দমননীতি চালায়। এর অনিবার্য পরিণতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত হয় জুলাই অভ্যুত্থান। আর জুলাই অভ্যুত্থানের অনিবার্য পরিণতিতে ভারতীয় প্রভুত্বের অবসান ঘটে এবং তাদের লোকাল এজেন্ট আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হয়।
এটিই হলো আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের সঠিক ন্যারেটিভ। অর্থাৎ আমরা, বাংলাদেশীদের জীবনে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ ছিলো ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, ২০২৪ এর পরেও আবার নতুন করে শোনা যাচ্ছে আরো ভয়াবহ কণ্ঠ। এখন বলা হচ্ছে, তারা নাকি ৪৭ মানেন না। দেশ বিভাগের ভেদ নীতি নাকি তারা মানেন না। এই লেখার শুরুতেই বলেছি যে, এই ধরনের সুসংগঠিত প্রচারণা আমি শুনছি আমার স্কুল জীবন থেকে। এখন জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে আগের চেয়েও ভয়াবহ কথা শুনছি। ৪৭ মানি না, এর সাথে যুক্ত হচ্ছে আরো কিছু ভয়াবহ কথা। যেমন ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ ছিলেন স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার অগ্নি পুুরুষ। এরা বলতে বলতে এতদূরও গিয়েছেন যে, এখন বলছেন, পবিত্র ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ যাকাতের চেয়ে নাকি চাঁদাবাজিও ভালো।
॥দুই॥
সবগুলো পয়েন্টই সংক্ষেপে আলোচনা করবো। প্রথমে আসি নতুন আওয়াজ, ‘৪৭ মানি না’। আমি ঠিক বুঝতে পারি না যে, যারা এই ধরনের আওয়াজ প্রকাশ্যে তুলছেন তারা কি জেনে বুঝে করছেন? নাকি ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞানের সংকীর্ণতার জন্য বলছেন? তর্কের খাতিরে ঐ কুযুক্তি মেনে নিলাম। তাদের সাথে সহমত পোষন করে বললাম যে, ৪৭ মানি না। তাহলে কি দাঁড়ালো? ৪৭ এর আগের অবস্থায় আমরা ফিরে গেলাম। ৪৭ এর আগের অবস্থা কী? প্লেইন অ্যান্ড সিম্পল উত্তর: অখণ্ড ভারতে প্রত্যাবর্তন। যারা ৪৭ মানেন না তারা কি অখণ্ড ভারতে ফিরে যেতে চান? অথচ, তারাই এবং তার আগে আওয়ামী লীগাররা এমন গলা ফাটিয়ে স্বাধীন বাংলার জয়ধ্বনি দেন যে, শুনে মনে হয় স্বাধীন বাংলার জন্য তারা জান কোরবান করবেন।
৪৭ না মানলে তো বাংলাদেশই হয় না। ৪৭ হয়েছিলো বলেই পাকিস্তান হয়েছিলো। আর পাকিস্তান হয়েছিলো বলেই ভারত বিভক্ত হয়েছিলো। আর ভারত বিভক্ত হয়েছিলো বলেই পাঞ্জাব এবং বাংলা বিভক্ত হয়েছিলো। ৪৭ না মানলে অখণ্ড বাংলা থাকতো। আর অখণ্ড বাংলা ভারতেরই অন্তর্ভুক্ত একটি প্রদেশ থাকতো। ভারত বিভাগের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনারা কি ভারতভুক্ত অখণ্ড বাংলার নাগরিক হিসাবে থাকতে চেয়েছিলেন? সেই পথ কিন্তু এখনো খোলা আছে। বিজেপি এবং তাদের প্যারেন্ট সংগঠন আরএসএস এই প্রোপাগান্ডা আরো জোরদার করেছে যে, তারা অখণ্ড ভারত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেই অখণ্ড ভারতে রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। এমনকি তাদের পার্লামেন্ট, যার নাম লোকসভা, সেখানে একটি ম্যুরাল বানিয়েছে যেখানে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে।
এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার যে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি রাষ্ট্র হয়েছিলো। একটি ভারত এবং অপরটি পাকিস্তান। জন্মের পর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তান চির বৈরী। আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ করেছি। এখন যারা এত বেশি ভারতপ্রেমী তাদের জন্য কিন্তু ভারত আপনাদেরকে ভারতে খোশআমদেদ জানানোর জন্য দু’ হাত বাড়িয়ে আছে। এই সব ভারতপ্রেমীকে প্রশ্ন করতে চাই, দেশভাগের জখম যদি আপনাদের কাছে এতই অসহ্য মনে হয় তাহলে ১৯৭১ সাল তো আপনাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিলো। তখন ওই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেননি কেনো?
॥তিন॥
ভারতপ্রেমীদের মধ্যে একটি অংশ আছে যারা আজও যুক্ত বাংলার খোয়াব দেখে। আমি ছাত্র জীবনে শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, কে এম ওবায়দুর রহমান প্রমুখকে বক্তৃতায় বলতে শুনেছি যে, জিন্নাহ সাহেবের কারণেই নাকি আমাদেরকে খণ্ডিত বাংলা গ্রহণ করতে হয়েছে। কীভাবে যে এদেশের মানুষকে মিথ্যার বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন করা হয়েছিলো সেটি ভেবে অবাক হতে হয়। আজকের বিজেপি তো কলকাতার সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিরই উত্তরসূরী। সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ঠোঁট কাটার মতো বলেছিলেন, যুক্ত বাংলাতে মুসলমানরা মেজরিটি। সেজন্যই ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত অখণ্ড বাংলার প্রধানমন্ত্রী (তখন বাংলার আলাদা মর্যাদার জন্য মুখ্য মন্ত্রী না বলে প্রধানমন্ত্রী বলা হতো) ছিলেন ৩ মুসলমান। এরা হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বলেন, যতদিন বাংলা অখণ্ড থাকবে ততদিন মুসলমানরাই মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। কারণ, বর্তমান বাংলাদেশে যেমন মুসলমানরা মোট জনসংখ্যার ৯২ শতাংশ তেমনি বিভাগপূর্ব অখণ্ড বাংলাতেও মুসলমানরা ছিল সংখ্যা গরিষ্ঠ। সুতরাং কংগ্রেস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির দল বাংলা ভাগের জন্য বদ্ধপরিকর ছিল।
আজকে ছোট্ট পরিসরে অতিসংক্ষেপে একথা বলতে চাই যে, ক্যাবিনেট মিশনের এবিসি প্ল্যান গ্রহণ করলেও ভারত ভাগ করতে হতো না। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পন্ডিত নেহরু ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান প্রত্যাখান করেন। ফলে ভারত বিভক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
শেষ করার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতামূলক একটি বয়ান উল্লেখ করতে চাই। এই সেদিন জাতীয় সংসদে একজন মাননীয় সদস্য বলেছেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ৭১ এ শুরু হয়নি। স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ। ইতিহাস সম্পর্কে এদের অজ্ঞতা দেখে আফসোস হয়। ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয় ১৯০৮ সালে। প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করেন। প্রফুল্ল চাকী বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বিহার গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। এরা দুজন ‘যুগান্তর’ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্ত্রাসী ছিলেন। এদের লড়াই ছিলো ‘ভারত মাতার’ মুক্তির জন্য। আর সূর্যসেন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন ‘অনুশীলন সমিতি’ নামক আরেকটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য।
যে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের জন্য বাংলাদেশের আওয়ামী সিপিবি ঘরানা সূর্যসেন এবং প্রীতিলতাকে এত মহিমান্বিত করে তারা কিন্তু তাদের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন কট্টর হিন্দু সাম্প্রদায়িক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উস্কানিমূলক উপন্যাস ‘আনন্দ মঠ’ থেকে। এই আনন্দ মঠেই বঙ্কিম উচ্চারণ করেছেন, ‘বন্দে মাতরম’। বন্দে অর্থ হলো, নমস্কার। মাতরম অর্থ হলো, মাতৃভূমি। অর্থাৎ মাতৃভূমিকে নমস্কার। এই মাতৃভূমি হলো, ভারত মাতা। সূর্যসেন মারা যান ১৯২৯ সালে, অর্থাৎ ভারত বিভক্তির ১৮ বছর আগে। আর প্রীতিলতা মারা যান ১৯৩২ সালে, অর্থাৎ ভারত বিভক্তির ১৫ বছর আগে। তখন বাংলাদেশ তো দূরের কথা, পাকিস্তানের কথাও ওঠেনি। লাহোর প্রস্তাব মোতাবেক পাকিস্তান গঠিত হয়। (লাহের প্রস্তাব মোতাবেক দুইটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র নাকি একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ) তার আগে মুসলমানদের আলাদা আবাস ভূমির কল্পনাও মুসলিম লীগের মাথায় ছিলো না।
সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম পরিবর্তন করে মাস্টার দা সূর্যসেন হল এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার হল করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই। আমি এখানে একটি কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উচ্চারণ করতে চাই। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে, যখন পবাহিনী তাদের ওপর হেভী ক্র্যাকডাউন শুরু করে ।
ঊসধরষ:লড়ঁৎহধষরংঃ১৫@মসধরষ.পড়স