একটা সমকোণ বাঁক ঘুরতেই চালক গাড়ি থামিয়ে গভীর অনুভূতি নিয়ে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’-এর মতো কিছু একটা বলে গাড়ি থেকে নেমে গেলেন। তারপর রাস্তায় শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।
ট্যুর কোম্পানির একটি মাইক্রোবাস। চালক ছাড়া আছেন একজন তিব্বতি গাইড, ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় তরুণ-তরুণী, রাশিয়া থেকে আসা বছর চল্লিশের এক ভদ্রলোক, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা জন্মসূত্রে চীনা এক ভদ্রমহিলা আর আমি। ভক্তি ও শ্রদ্ধা থেকে তাঁরা এসেছেন—কেউ মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে, কেউ পুণ্য অর্জন করতে।
তাঁরাও দৌড়ে গাড়ি থেকে নেমে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।
এই বাঁক ঘুরলেই প্রথম চোখে পড়ে কৈলাস পর্বত। তাই এই ভক্তিপ্রণাম। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর এই প্রথম কৈলাস দর্শন!
২০১৯ সালের মে মাসে কাঠমান্ডু থেকে শুধু তিব্বত পারমিট নিয়ে বিমানে তিব্বতের রাজধানী লাসায় যাই। যাঁরা এই ফ্লাইটে গেছেন, তাঁরা জানেন, কতটা মনোহর এই ভ্রমণ। হিমালয় পর্বতমালাকে দক্ষিণ থেকে উত্তরে পাড়ি দেওয়া, আর একেবারে মাউন্ট এভারেস্টকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়, শুধু দুই চোখ দিয়ে দেখা ছাড়া!