পাকিস্তান, তুরস্কসহ আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সম্প্রীতি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রেখে পাস হওয়া নতুন আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পাস হওয়া আইনে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসির বিধান রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এ নিন্দা জানিয়েছে।
এতে নতুন আইন পাস হওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য জোর দিয়েছে।
ইসরায়েলের নতুন আইনটি পাস করার আগে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রস্তাবিত এই আইনটির বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। একটি যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি বৈষম্যমূলক হতে পারে এবং ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তারা মৃত্যুদণ্ডের প্রতি তাদের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এটিকে ‘অমানবিক ও অবমাননাকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার কোনো প্রমাণিত প্রতিরোধমূলক প্রভাব নেই। তারা ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের এই বিলটি বাদ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সমর্থিত একটি বিল অনুমোদন করে। এতে সন্ত্রাসবাদ বা প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
১৯৫৪ সালে ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করলেও যুদ্ধাপরাধ বা রাষ্ট্রদ্রোহের ক্ষেত্রে এটি বহাল ছিল। তবে ১৯৬২ সালে অস্ট্রিয়ান-জার্মান নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের ক্ষেত্রে মাত্র একবার এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স।
বিডি প্রতিদিন/কামাল