অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
মামলাটি করেছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তাঁর সাবেক চালকের মাধ্যমে একটি শাড়ি নেন। শাড়িটির মূল্য ৭৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন বাদী। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানায়, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিশাকে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সেটি দেখেননি। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আবার শাড়িটির বিষয়ে তিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাদী। তখন তিশা শাড়িটির কথা মনে করতে পারছেন না জানিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে জানান।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিশা জানান, তাঁর সাবেক চালকের কাছে শাড়িটি ছিল। ওই ব্যক্তি চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় শাড়িটি ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা শাড়িটি ডাকযোগে ফেরত পাঠান। নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শাড়িটি পাঠানো হয়।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের সময় বাদীপক্ষকে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ দিতে বলা হলেও তা উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে তিশা শাড়িটি ফেরত দিয়েছেন। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে মত দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।হুমকির অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পিবিআইয়ের এই প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মামলার বাদী। তাঁর দাবি, তদন্তের সময় তিনি সাক্ষী ও হুমকির অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ দিয়েছিলেন। সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীপক্ষ জানিয়েছে, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজির আবেদন করা হবে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।