আয়ারল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান; এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে তারা।শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা টেনে নিয়ে গেলেন রশিদ খান। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়ে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেল আফগানরা। একই সঙ্গে এই জয় তাদের টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার পথও নিশ্চিত করেছে।টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ড শুরুতেই ফজলহক ফারুকির বলে অ্যান্ড্রু বালবির্নিকে হারায়। এরপর পল স্টার্লিং ও কেইড কারমাইকেল জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। দুজনের সময়োপযোগী বাউন্ডারিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও কিছুটা নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।
তবে ইয়ামিন আহমদজাই এসে সেই জুটি ভাঙেন। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে আয়ারল্যান্ড। রশিদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন কারমাইকেল। এরপর মাত্র দুই ওভারের মধ্যে লরকান টাকার ও কার্টিস ক্যাম্ফারকে সাজঘরে ফেরান এএম গাজানফর।মাত্র ২১.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় আয়ারল্যান্ড। এরপর রশিদের গুগলিতে হ্যারি টেক্টরও বিদায় নিলে স্বাগতিকদের স্কোর আরও সংকটে পড়ে।
তবে নিচের সারির ব্যাটারদের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ২০০ পেরোয় আয়ারল্যান্ড। গ্যাভিন হোয়ে ও জায় মোন্দ্রা ৮ উইকেটে ১২৮ রান থেকে নবম উইকেটে যোগ করেন মূল্যবান ৭৬ রান। তাদের জুটিতেই লড়াই করার মতো পুঁজি পায় আয়ারল্যান্ড।শেষ পর্যন্ত ৪৭তম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাই হোয়ের উইকেট নিয়ে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন। আয়ারল্যান্ড অলআউট হয় ২০৬ রানে। আফগানিস্তানের হয়ে গাজানফর ৩টি ও রশিদ খান ৩টি উইকেট নেন।
রশিদের ব্যাটে রক্ষা২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে আফগানিস্তান। জাই মোন্দ্রার এক ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকান রহমানউল্লাহ গুরবাজ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন এই ওপেনার।
ইব্রাহিম জাদরানের ধীরগতির ইনিংসের পর সেদিকউল্লাহ আতালও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। গুরবাজও ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে এরপর রহমত শাহ বোল্ড হয়ে ফেরায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়।আফগানিস্তান আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ফিরছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু গ্যাভিন হোয়ে আবারও আঘাত হানেন। তাঁর বলে হাসমতউল্লাহ শাহিদী ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর গুরবাজের ঝড়ো ইনিংসও থামে।
পরপর আরও কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় শটে উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে আফগানিস্তান। মার্ক অ্যাডেয়ারের বলে ওমরজাই আউট হওয়ার সময় জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান, হাতে মাত্র তিন উইকেট।
তখনই দায়িত্ব নেন রশিদ খান।এক প্রান্তে ইয়ামিন আহমদজাই ধরে ধরে ব্যাটিং করছিলেন, অন্য প্রান্তে রানের চাকা সচল রাখেন রশিদ। অষ্টম উইকেটের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেও রশিদের উইকেট নিতে পারেনি আয়ারল্যান্ড।শেষ পর্যন্ত তাঁর অপরাজিত ৩৭ রানের লড়াকু ইনিংসে ৪৪.৫ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। গুরবাজ করেন ৭১ রান। আয়ারল্যান্ডের হয়ে হোয়ে ৪ উইকেট নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ২০৬ (৪৬.৩ ওভার) — গ্যাভিন হোয়ে ৩৬; এএম গাজানফর ৩/২৯, রশিদ খান ৩/৪৪।
আফগানিস্তান: ২০৭/৭ (৪৪.৫ ওভার) — রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৭১, রশিদ খান অপরাজিত ৩৭; গ্যাভিন হোয়ে ৪/৩৪।ফল: আফগানিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।