নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেও ফিফা সভাপতি পদে পুননির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্তে অটল জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস কর্মকর্তা জয়ী হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফার নেতৃত্বে থাকবেন। রোববার ফিফার এক মুখপাত্র জানান, গত এপ্রিলে ইনফান্তিনো পুননির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এপ্রিলে ফিফা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ২০২৭ সালে পুননির্বাচনের জন্য দাঁড়াবেন। অবশ্যই সেই সিদ্ধান্তে কোনো বদল আসেনি। ইনফান্তিনো পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়বেন।’ ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। এরপর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে পুননির্বাচিত হন তিনি। এবার জিতলে এটি হবে তার চতুর্থ ও শেষ মেয়াদ।
তবে ইনফান্তিনোর মেয়াদ নিয়ে শুরু থেকেই একটি আইনি জটিলতা রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ২০২২ সালে ফিফা কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয়, ব্লাটারের অসমাপ্ত মেয়াদ পূরণে ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে যে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তা তিন মেয়াদের সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না। সে হিসাবে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। তবে মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারের দাবি, ফিফার নিয়মের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইনফান্তিনো ইতোমধ্যেই তার তৃতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদে রয়েছেন। এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফিফার ইভেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
পরিকল্পনাটি নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের অংশীদারদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না করার অভিযোগ ওঠে। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসিসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরোধিতার পর ফিফা পরিকল্পনাটি থেকে সরে আসে। এই ইস্যুতে ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উয়েফা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ তোলে এবং ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। পরে সেই হুমকি প্রত্যাহার করলেও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরিকল্পনার নথি সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদনও করেছে তারা। নথি হাতে পেলে সুইজারল্যান্ডে আইনি অভিযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে উয়েফার।
তবে বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনো সমর্থন পাচ্ছেন। ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সউদী আরব তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আফ্রিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএএফ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবলও তার পক্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে। আর্জেন্টিনাও তার সমর্থকদের তালিকায় রয়েছে।

ফিফা অবশ্য উয়েফার বিরুদ্ধে ইনফান্তিনোকে লক্ষ্য করে ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে। এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কনকাকাফ সভাপতি ও ফিফা সহ-সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ান। একসময় ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মন্তাগ্লিয়ানের অবস্থান অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বদলেছে। অন্যদিকে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার শেফেরিন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা। ফিফার ২১১ সদস্য ফেডারেশনের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলেই ইনফান্তিনো আরও এক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবেন। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews