এক সময় যা ছিল কল্পনারও বাইরে, এখন সেটাই যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাস্তবতা। টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক কিংবা টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটেই এখন একাদশে দেখা যাচ্ছে তিনজন ফাস্ট বোলার। সাম্প্রতিক সাফল্যও এসেছে এই ছকেই। তাই চট্টগ্রামে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতেও কি একই কৌশল ধরে রাখবে বাংলাদেশ এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক একদিনের সিরিজে প্রতিটি ম্যাচেই তিন ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। আর সেই পেস আক্রমণই গড়ে দিয়েছে জয়ের ভিত।
প্রথম ম্যাচে বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শরিফুল ইসলাম চার উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। যদিও ব্যাটিং ব্যর্থতায় তার সেই সাফল্য পুরোপুরি কাজে লাগেনি। পরের দুই ম্যাচে নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচ উইকেট করে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন বাংলাদেশের হাতে। এরপর ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে সিরিজ জিতে নেয় দল।
এই সাফল্যের পর প্রশ্ন উঠেছে চট্টগ্রামের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও কি তিন পেসারের কৌশলই অনুসরণ করবে দল? দলের বর্তমান গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পেস বিভাগে থাকা কয়েকজন খেলোয়াড় ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে সক্ষম। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন মূলত পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া তানজিম হাসান সাকিব ও রিপন মণ্ডলেরও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট করার সক্ষমতা রয়েছে।
তবে এই ম্যাচে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা না থাকায় পেস আক্রমণ সাজাতে কিছুটা ভিন্ন ভাবনা নিতে হচ্ছে দলকে। ধারণা করা হচ্ছে, তিন পেসারের কোটায় অন্তত একজন অলরাউন্ডারকে রাখা হতে পারে, যাতে ব্যাটিং ও বোলিং দুই দিকেই ভারসাম্য বজায় থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক লিটন দাস একসঙ্গে বসেই একাদশ চূড়ান্ত করবেন। ম্যাচের আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
পেস বিভাগে শরিফুল ইসলামের জায়গা প্রায় নিশ্চিত। তার সঙ্গে তানজিম হাসান সাকিবকে দেখা যেতে পারে। তৃতীয় পেসার হিসেবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বা রিপন মণ্ডলের মধ্যে একজনের খেলার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের খেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ব্যাটিং বিভাগে ছয়জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান থাকবেন। তিন নম্বরে খেলবেন অধিনায়ক লিটন দাস। চার নম্বরে পারভেজ হোসেন ইমন, পাঁচে তাওহীদ হৃদয় এবং ছয়ে শামীম পাটোয়ারী এমনটাই ভাবনা দলের।
এই ছক অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যাটার নেওয়ার সুযোগ কম। ব্যাটার সংখ্যা বাড়াতে গেলে বোলিং বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়বে, যা দল ব্যবস্থাপনা চাইছে না।
স্পিন বিভাগে শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদের মধ্যে যেকোনো দুইজনকে দেখা যেতে পারে। ডানহাতি লেগ স্পিনার ও বাঁহাতি স্পিনারের সমন্বয় রাখার কৌশল থেকেই এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শেখ মেহেদীর সঙ্গে রিশাদ বা নাসুম—এমন একটি সমন্বয়ই বেশি সম্ভাব্য।
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়াতে পারে
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন অথবা নাসুম আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন অথবা রিপন মণ্ডল। এখন দেখার বিষয়, সাম্প্রতিক সাফল্যের এই পেস নির্ভর কৌশল টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রেখে মাঠে নামে কি না বাংলাদেশ দল।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি