কভেন্ট্রির বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর নতুন চুলের ছাঁট, বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানো এবং এনজো মারেস্কার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন পথচলা নিয়ে কথা বলেছেন নরওয়ের তারকা।
কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে ম্যানচেস্টার সিটির নিখুঁত শুরু ধরে রেখেছেন আর্লিং হালান্ড। শনিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আন্তোয়ান সেমেনিওর ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। ফলে প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে সিটি। ম্যাচটিতে পূর্ণ অভিষেক হয়েছে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের। আর গ্রীষ্মে দলে যোগ দেওয়া এলিয়ট অ্যান্ডারসন ১৫৫টি নিখুঁত পাস দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ম্যাচ শেষে নিজের নতুন চেহারা নিয়েও কথা বলেন হালান্ড। মৌসুমের শুরু থেকেই ছোট চুলে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। কেন হঠাৎ এমন পরিবর্তন, জানতে চাইলে নরওয়ের তারকা বলেন, ছোট চুল রাখা অনেক সহজ। তাঁর ভাষায়, পরিবর্তনের সময় এসেছিল বলেই চুল কেটেছেন। নতুন চেহারা তাঁর ভালোই লাগছে, যদিও লম্বা চুলকে কিছুটা মনে পড়ে। তবে আবার চুল বড় করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে আবারও লম্বা চুলে ফিরবেন।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতিও উঠে আসে হালান্ডের কথায়। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। মজার ছলে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেওয়ার জন্য ক্ষমাও চান হালান্ড। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে সর্বশেষবার নরওয়ে যখন খেলেছিল, তখনও প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল। তাঁর দাবি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল এখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি। তাই ম্যাচটি নরওয়ের জন্য বিশেষ ছিল।
হালান্ডের মতে, ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়টি ছিল নরওয়ের ইতিহাসের সেরা ম্যাচ। কারণ শুধু জয় নয়, পুরো ম্যাচে যেভাবে তারা নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল, সেটিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। ফুটবলের দেশ হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা এবং তাদের বিপুল ফুটবল আবেগের মুখোমুখি হওয়াটাও ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। সেই স্মৃতিকে অসাধারণ উল্লেখ করে আবারও ব্রাজিলের কাছে মজা করে দুঃখপ্রকাশ করেন হালান্ড—‘হারটির জন্য দুঃখিত, তবে এটাই ফুটবল।’
এদিকে এনজো মারেস্কার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির বড় ধরনের কৌশলগত ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময় নতুনদের ওপর আস্থা রাখছেন হালান্ড। এনজো ফার্নান্দেজ ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মতো নতুনদের নিয়ে তিনি বলেন, সময়ই সব উত্তর দেবে। ফার্নান্দেজ শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন এবং প্রিমিয়ার লিগেও আগে খেলেছেন, তাই সিটির দলে দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছেন। অ্যান্ডারসনও দীর্ঘদিন প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও মাঠে নেমেছেন। হালান্ডের মতে, নতুনদের স্বাগত জানিয়ে দল হিসেবে নতুন কিছু গড়ে তুলতে হবে—তিনি নিজে সিটিতে আসার পর যেমন সমর্থন পেয়েছিলেন, নতুনদেরও তেমন পরিবেশ দিতে হবে।