এরপর সালমান শাহকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক মুক্তি পায় ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।
সালমান শাহর ২৭টি চলচ্চিত্রের ১৩টিতেই নায়িকা ছিলেন শাবনূর। পর্দায় দুজনের রসায়ন দর্শকের কাছে এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল যে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি হয়ে ওঠেন তাঁরা। তবে মৌসুমী, শাবনাজ, লিমা, শিল্পী ও সোনিয়াসহ সে সময়ের আরও কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গেও অভিনয় করেছিলেন সালমান।
নায়ক থেকে সময়ের প্রতীক
সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কেবল তাঁর চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নায়কের পোশাক, চুলের ধরন ও পর্দায় উপস্থিতি কেমন হতে পারে—সেটিরও নতুন একটি ধারণা তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর জ্যাকেট, শার্ট, মাথার ক্যাপ কিংবা চুলের ছাঁট অনুসরণ করতেন তরুণেরা।
প্রেমিক চরিত্রের পাশাপাশি পারিবারিক গল্প, সামাজিক সংকট কিংবা প্রতিবাদী তরুণের ভূমিকাতেও দর্শক তাঁকে গ্রহণ করেছিলেন। একই সময়ে আবেগ, রোমান্স ও তারুণ্যের ভাষা পর্দায় তুলে ধরতে পারার কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের একটি প্রতীক।
সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ই বলে দেয়, সে সময় নির্মাতা ও প্রযোজকদের কাছে সালমান শাহর চাহিদা কতটা ছিল। মৃত্যুর পরও তাঁর অভিনীত কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। সেগুলোও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছিল।