দুই বছর পর ওয়ানডে ম্যাচ ফিরেছে চট্টগ্রামে। এক সময়কার জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়াম এখন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেট ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ফিরেছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল সফরকারী নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচ ৬ উইকেট জিতে সিরিজে সমতা আনে বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচ সিরিজে সমতা থাকায় আজকের ম্যাচ রূপ নেয় অলিখিত ফাইনালে। বাংলাদেশ এর আগেও বহুবার অলিখিত ফাইনাল খেলেছে। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলিখিত ফাইনাল জিতে সিরিজ জিতেছিল। মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবারও সে পথে হাঁটতে চায়। চট্টগ্রামে আজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিতে টানা তৃতীয় সিরিজ জিততে মরিয়া মিরাজ বাহিনী। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে। যদিও টাইগাররা এখন নয়ে। সিরিজ জিতলেও অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর নিউজিল্যান্ডকে হারালে পয়েন্ট ৭৯ থেকে বেড়ে ৮৩ হবে। বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইট চট্টগ্রামে মিডিয়ার মুখোমুখিতে বলেন সিরিজ জয়ের চাপে রয়েছে দল, ‘সিরিজ জয়ের চাপ সবসময়ই থাকে। এটা শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট, অবশ্যই আপনি সিরিজ জিততে চাইবেন। বিশেষ করে গত ম্যাচে এমন একটা জয়ের পর।’
প্রথম ওয়ানডেতে টাইগারদের ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি ছিল দুটি। তার পরও বড় কোনো জুটি ছিল না। মিডল অর্ডার ব্যাটাররা ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। হেরে যায় ২৬ রানে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। নাহিদ রানার গতি, বাউন্স ও সুইংয়ে নাজেহাল হয় সফরকারী টম ল্যাথামের দলের ব্যাটিং লাইন। রানার ফাইফারে স্কোরবোর্ডে ১৯৮ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকরা সেটা টপকে যায় তানজিদ তামিমের ৭৯ ও নাজমুল হোসেন শান্তের ৫০ রানের ইনিংসে ভর করে। ওয়ানডেতে ১৩ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি করেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল। শততম ওয়ানডে খেলা টি-২০ অধিনায়ক লিটন দাস ১৮ ইনিংস ধরে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছেন না ওয়ানডেতে। নাহিদ ৫ উইকেট নেন ৩২ রানে। দাপুটে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ সিরিজ সমতা ফেরায়। তৃতীয় ওয়ানডে আজ। দুই দল এই পর্যন্ত পরস্পরের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছে ৪৮টি। বাংলাদেশের ১২ জয়ে বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের জয় ২৫টি। একটিতে ফল হয়নি।
দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারায় জরিমানা গুনতে হয়েছে মিরাজ বাহিনীকে। নিউজিল্যান্ড ইনিংসে ৩৫.৩ ওভার বল করতে বাংলাদেশের বোলাররা সময় নেন চার ঘণ্টার বেশি। মন্থর ওভার রেটে বোলিংয়ের জন্য ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আইসিসি আচরণবিধির ২.২২ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতি ওভারের জন্য ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়। মিরাজ বাহিনী ২ ওভার বোলিং বেশি করায় ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা গুনেছে। অধিনায়ক মিরাজ ধীরগতিতে বোলিংয়ের দায় মেনে নেন।
প্রথম ম্যাচে টসের ঠিক আগে ডান হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফলে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান শরিফুল ইসলাম। সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল। দুই ম্যাচে ১২০ বলের স্পেলে ডট নেন ৮৫টি। তাসকিন আহমেদও ভালো বোলিং করেন। নাহিদ প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ থাকলেও দ্বিতীয়টিতে ম্যাচ জেতানো বোলিং করেন। তার পরও স্কোয়াডে পঞ্চম পেসার হিসেবে নেওয়া হয়েছে তানজিম সাকিবকে। আজ একাদশে কোন কোন পেসার খেলবেন? মুস্তাফিজ কি ফিরবেন? পেস বোলিং কোচ টেইট বলেন, ‘মুস্তাফিজ খেলবেন কি না, শতভাগ নিশ্চিত নই। সম্ভবত সে সিলেকশনের জন্য এভেইলেবল থাকছে। আজ (গতকাল) ৩-৪ ওভার বল করেছে। জানি না মেডিকেল টিম কী ভাবছে। যতটুকু বোলিং করেছে, ঠিকঠাক ছিল।’
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলেছে ৩১টি। জিতেছে ১৯টি এবং হেরেছে ১২টি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ মাঠে একটি মাত্র ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। সেটা আবার ২০০৮ সালে। রস টেইলরের সেঞ্চুরিতে ব্ল্যাক ক্যাপসদের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ২৪৭ রান। টেইলর খেলেছিলেন ১১৯ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৩ রানের ইনিংস। জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৭০ রান। অবশ্য চট্টগ্রামে দুই দেশ আরও একটি ম্যাচ খেলেছিল। ২০০৪ সালের ম্যাচটির ভেন্যু ছিল এমএ আজিজ স্টেডিয়াম। ম্যাচটি ১৩৮ রানে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড।