প্রথম আলো
‘বিরোধী দলকে সভাপতি পদ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিরোধী দলকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল প্রতিনিধি না দেওয়ায় জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। অতীতের রীতি অনুযায়ী কমিটি গঠন করতে চায় সরকারি দল।
জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক ১১টি এবং মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি আছে ৩৯টি। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদে এই ৫০টি কমিটির মধ্যে বিরোধী দল ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা। তবে এবার অন্তত ১১টির সভাপতি পদ পাওয়ার আশা করেছিল বিরোধী দল। এখন পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। আগামী অধিবেশনে বাকি ৩৫টি কমিটি গঠন করার কথা। তবে এসব কমিটির আর কোনোটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে সরকারি ও বিরোধী দলের সূত্র জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ দুটো ক্ষেত্রেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংসদীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা, অনিয়ম ও গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া বা সুপারিশ করাও সংসদীয় কমিটির কাজ।
বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ‘রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে সই করা জুলাই সনদের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে। সংবিধানে এই বিধান যুক্ত করা হবে। জুলাই সনদের এই প্রস্তাবে বিএনপিসহ ৩০টি দল ও জোট একমত হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সনদের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন করতেই হবে এমন নয়। সরকার চাইলে এখনই এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। কারণ, সংসদীয় কমিটির সভাপতি কোন দল থেকে দেওয়া হবে, তা সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির কোথাও নির্ধারণ করে দেওয়া নেই।
কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা আছে, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও বিরোধী দলকে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছিল। একাদশ সংসদে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছিল বিরোধী দল থেকে।
সংসদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা নিযুক্ত হবেন। সংসদ মনোনীত না করে থাকলে কমিটির সদস্যরা তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি নির্বাচন করবেন।
কার্য উপদেষ্টা কমিটি, পিটিশন কমিটিসহ কয়েকটি কমিটির সদস্য মনোনয়ন করেন স্পিকার। এর বাইরে বিষয়ভিত্তিক অন্য কমিটিগুলো এবং মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত কমিটিগুলো সংসদে ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়। সাধারণত সংসদ নেতার পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংসদে তোলেন। এই প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হয়। যেহেতু সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তাই তারা যেভাবে চাইবে সেভাবেই কমিটি গঠিত হবে। যেমন এবার সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে করা হয়েছে।
এর আগে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও বিরোধী দলকে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছিল। একাদশ সংসদে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছিল বিরোধী দল থেকে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের আগে সাধারণত বিরোধী দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে থাকে সরকারি দল। কোন কমিটিতে বিরোধী দলের কে থাকবেন, সে পরামর্শ তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়।
চলতি সংসদে এখন পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক ৬টি ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ৯টি মিলিয়ে ১৫টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধিতে নতুন সংসদ যাত্রা শুরুর প্রথম তিনটি অধিবেশনের মধ্যে মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা আছে। ২৭ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হবে। এই অধিবেশনে বাকি ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে। তবে আবদুল মঈন খান ও আন্দালিভ রহমান পার্থ যথাক্রমে পরিকল্পনা এবং আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাঁরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় এ দুটো কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।
বিরোধী দলের একটি সূত্র জানায়, বিরোধী দলকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ছিল। দ্বিতীয় অধিবেশনে গঠন করা সরকারি হিসাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি পদও বিরোধী দলকে দেওয়া হয়। তাদের আশা ছিল এবার বিষয়ভিত্তিক আর কোনো কমিটির সভাপতি পদ না দেওয়া হলেও সংসদের আসন সংখ্যানুপাতে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ১০টি কমিটির সভাপতি বিরোধী দল পাবে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি সরকারি দল তাঁদের কাছে সংসদীয় কমিটির সদস্য দেওয়ার জন্য নাম চেয়েছিল। তখন বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলকে সভাপতি পদ দেওয়ার কথা। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দিলে সংসদীয় কমিটিতে সভাপতি পদ দেওয়া হবে না। সরকারি দল জুলাই সনদ লঙ্ঘন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি পেছন থেকে ছুরিকাঘাতের মতো।
গত ১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। তারা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের ধারণাগত মতভিন্নতা আছে।
বিরোধী দল প্রতিনিধি না দিলেও সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সরকারি দল বলেছে, বিরোধী দলের প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত আছে। তারা যখন নাম দেবে, তখনই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারি দলের অবস্থান
সরকারি দলের একটি সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদের বণ্টন বিষয়ে তাদের অবস্থান হলো—বিএনপি ইতিমধ্যে বলেছে জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার একটি অংশ হচ্ছে সংবিধান সংশোধন কমিটি। বিরোধী দলকে সভাপতি পদ দেওয়ার বিষয়টিও ওই প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু তারা বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিচ্ছে না, এর অর্থ তারা ওই প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছে না। সংবিধান সংশোধন হওয়ার পর জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তা ছাড়া এর আগে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদটি দিতে চেয়েছিল সরকারি দল, তখন তারা সেটিও নেয়নি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অতীতের রীতি অনুযায়ী এবার সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে। অতীতে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছিল। এবারও তা করা হয়েছে। বাকি সব কমিটি আগামী অধিবেশনে গঠিত হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি কাজ করছে।
যেসব কমিটি হয়েছে
এখন পর্যন্ত গঠিত মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত ৯টি স্থায়ী কমিটি হলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, পানিসম্পদ, শিল্প, পরিকল্পনা, অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত। সব কটি কমিটির সভাপতি হয়েছেন সরকারি দল বা মিত্রদের মধ্য থেকে।
এখন পর্যন্ত গঠিত বিষয়ভিত্তিক ছয়টি কমিটির মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বাকি পাঁচটি কমিটি হলো কার্য উপদেষ্টা কমিটি, বিশেষ অধিকার, সংসদ কমিটি, লাইব্রেরি কমিটি ও বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি।
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার স্বার্থে সংসদীয় কমিটিগুলো দ্রুত গঠন করা উচিত। জুলাই সনদ অনুযায়ী চারটি কমিটির সভাপতি অবশ্যই বিরোধী দল থেকে পাওয়ার কথা। এ ছাড়া সংখ্যানুপাতিক হিসাবে মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশ বিরোধী দলের পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে সব দলের ঐকমত্য হয়েছিল। এটি করার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই। এটিকে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড় করানোর জন্যই তাঁরা মূলত প্রস্তাবটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিলেন।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আকাশপথে হুন্ডি সিন্ডিকেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট ল্যান্ড করল। রানওয়ে ছুঁয়ে নামল বিমানের চাকা। গ্রিন চ্যানেল পার হচ্ছেন ক্রু। হুট করে থমকে দাঁড়াল গোয়েন্দা দল। শুরু হলো তল্লাশি। ব্যাগে মিলল ডলার, দিরহামসহ বৈদেশিক মুদ্রা। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা হাতবদল হয়েছে দুবাইয়ে। এক চেকেই পাচার পৌনে ১০ লাখ দিরহাম। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী হুন্ডি চক্র। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। শুরু করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত। এতে উঠে আসে ঝকঝকে ইউনিফর্মের আড়ালে আকাশপথে হুন্ডি চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য। জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের দুবাই স্টেশনে সংঘটিত হয়েছে নজিরবিহীন এই আর্থিক অপরাধ ও অর্থ পাচারের ঘটনা। কেবিন ক্রুদের বৈদেশিক বা ওভারসিজ ভাতা উত্তোলনের প্রচলিত নিয়মকানুন সম্পূর্ণ অমান্য করে এক জালিয়াতচক্র হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত শতকোটি টাকা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ডিজিএফআই এবং বিমানের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি গৌরব হারাবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুদের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার বা হুন্ডির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কেবিন ক্রুরা বিমানবন্দরের নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকেন। তাই কেউ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বহন করলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে অর্থ সংগ্রহ ও হস্তান্তর হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ কোনো সহযোগিতা ছিল কি না, তা তদন্ত করতে হবে। বিশেষ করে দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক হাব থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতবদলের অভিযোগ থাকলে পুরো আর্থিক লেনদেনের চেইন অনুসন্ধান জরুরি।’
এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, এ ঘটনায় কারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে-যে কোনো ধরনের দুর্নীতি, রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট বা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অনিয়ম বা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রচলিত ব্যবস্থায় বিদেশে কর্মরত বিমানের প্রত্যেক কেবিন ক্রুর ওভারসিজ বা বহির্গমন ভাতা তাদের নিজ নিজ নামে পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যাংক থেকে উত্তোলনের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হিসাবের স্বচ্ছতা রক্ষা করা এবং কোনো ধরনের হুন্ডি বা অবৈধ অর্থ পাচারের সুযোগ বন্ধ করা। কিন্তু দুবাই স্টেশনে সেই সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়মকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে। ১৪ মে জনতা ব্যাংক পিএলসি (দুবাই শাখা) থেকে একটি মাত্র একক চেকের (চেক নং-৯৪১৩২৬) মাধ্যমে ১৯৬ জন কেবিন ক্রুর বকেয়া ও ওভারসিজ ভাতা বাবদ ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ দিরহাম (প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) একবারে উত্তোলন করা হয়। চেকটি ইস্যু করা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইমপ্রেস্ট অ্যাকাউন্ট থেকে, ফ্লাইট স্টুয়ার্ড এফএস শাকুর (পিএন নং-৫১৫৪০)-এর নামে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানের অর্থ বিভাগের তৎকালীন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রচলিত পদ্ধতি উপেক্ষা করে এই সম্মিলিত অর্থ একজনের নামে উত্তোলনের অনুমোদন দেন। আর দুবাই স্টেশনের ফাইন্যান্স ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একক চেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের পরপরই তা বিমানে অবস্থানরত সংশ্লিষ্ট ক্রুদের হাতে না দিয়ে দুবাইয়েই রেখে দেওয়া হয়। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে যে, উত্তোলিত ওই নগদ অর্থ দুবাইয়ে অবস্থানরত একজন অবৈধ হুন্ডি এজেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর জালিয়াতির নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেন কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এফএস শাকুর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার উত্তরার একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের (মুরা/মৃদুলা মানি এক্সচেঞ্জ) এজেন্ট নাজমুলের সঙ্গে অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে জড়িত। দুবাইয়ে উত্তোলিত অর্থ অবৈধ হুন্ডিতে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে চক্রটিকে ব্যবহার করা হয়।
শাহজালালে তল্লাশি ও থলের বিড়াল: দুবাইয়ে অর্থ হস্তান্তরের গোপন সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ করা হয় বিশেষ সতর্কতা। ১৫ মে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে বিজি-২৪৮ নম্বর ফ্লাইটে এফএস শাকুর ঢাকায় পৌঁছান। তিনি যখন গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন, তখন ডিজিএফআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে তল্লাশি চালান। এ সময় শাকুরের কাছে মাত্র ১০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ২ হাজার দুবাই দিরহাম পাওয়া যায়। আর তার সঙ্গে থাকা অন্য ক্রুদের কাছে থেকে উদ্ধার করা হয় আরও কিছু বৈদেশিক মুদ্রা, যা হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ হাজার ৩৬০ দিরহাম সমপরিমাণ। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, উত্তোলিত ১৩ লাখ ৪৬ লাখ ৮৪৭ দিরহামের বিপরীতে ঢাকায় এত সামান্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হলো কেন?
কালের কণ্ঠ
‘বিএনপিতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে কয়েক সপ্তাহের ব্যস্ততার পর এবার দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়াতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর দলীয় কর্মকাণ্ডে নতুন করে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দল পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও অল্প সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন হবে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর এখন দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সংগঠনকে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। একই সঙ্গে তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ পূরণ, নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা কাটানো এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরকে টার্গেট করে এক দশক পর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলের হাইকমান্ড। দলটির একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপিকে এখন সাংগঠনিকভাবে আরো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো জরুরি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দলের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে গেছে। ফলে আন্দোলনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কাঠামোকে এখন সরকার ও নির্বাচনী রাজনীতির উপযোগী করে সাজানো প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিবাচক ফলাফলের জন্য তৃণমূলকে শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই। একই সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও গতিশীল নেতৃত্ব সামনে আনতে হবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, ক্ষমতায় থাকার সময় সংগঠনকে অবহেলা করার সুযোগ
নেই। বরং সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। দলের চেয়ারম্যন এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এখন দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করা, তৃণমূলের বিরোধ মেটানো, শূন্যপদ পূরণ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ গোছানোর কাজকেই সাংগঠনিক অগ্রাধিকারে রাখবেন।
রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পর বিএনপির এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার কী হতে পারে এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নতুনভাবে সংগঠন গোছাতে চাচ্ছি। তৃণমূল পর্যায়ে যাঁরা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সংগঠনকে ঠিক করা। আমাদের চেয়ারম্যান আছেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আছেন, আমাদের আরো যাঁরা আছেন—যাঁরা সংগঠনের জন্য কাজ করেন তাঁরা দ্রুতই পদক্ষেপগুলো নেবেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দল পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের সব সময় যোগাযোগ আছে। দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তিনি তৃণমূল নেতাদের কথা শুনছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।’
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দলের চেয়ারম্যান ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল্যের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশ জীবনের সময় থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সামনাসামনি বসে কথা বলছেন।’
তিনি বলেন, ‘দলের জাতীয় কাউন্সিল সামনের রেখেই সংগঠনের দিকে নজর দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরকে টার্গেট করেই চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে জাতীয় কাউন্সিলের।’
তৃণমূলে নজর
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোকে। কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, কোথাও নেতৃত্বের বিরোধ, আবার কোথাও গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য—এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির চাপ রয়েছে দলের ভেতরে। বিশেষ করে নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা বিভাজন মেরামত করে সংগঠনকে সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৃণমূলের ইউনিটগুলো বসে একজন প্রার্থী নির্ধারণ করবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জেলা পর্যায়ের সহযোগিতা নিয়ে প্রার্থী বাছাই করবেন। এরপর দলের পক্ষ থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়া হবে। একই পদে একাধিক প্রার্থী যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, সে বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।’
এদিকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতেও রাজশাহী, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি প্রধান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর পেছনে আরেকটি বড় কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন বিএনপির জন্য তৃণমূলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রিয়তা যাচাই এবং দলীয় কোন্দল নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন নেতারা।
দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরেও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আগে থেকেই সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত করা না গেলে সেই প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে বিরোধে রূপ নিতে পারে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মন্ত্রিসভা আকারে তৃতীয় বৃহত্তম, উপদেষ্টার সংখ্যা সর্বোচ্চ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হলো। যুক্ত হলেন চারজন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার তারা শপথ গ্রহণ করার পর মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা।
অবশ্য এই ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৫৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর সংখ্যা এখন ১২ জন। অতীতে কোনো সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এত উপদেষ্টা ছিলেন না।
সর্বোচ্চ ৬১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায়। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পান ৬০ জন। সরকারপ্রধানের উপদেষ্টা ছিলেন চারজন।
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে কয়েকবার বলেছিল ছোট আকারের কার্যকর সরকার গঠন করবে। এখন আর তা দেখা যাচ্ছে না। ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিত্বের স্বাদ দিয়েছে ৫৬ জনকে। সরকার যত ছোট হবে, কাজ তত ভালো। অতীতে যখনই বড় আকারের সরকার ছিল, বিশৃঙ্খলা তত বেশি ছিল।
চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
নতুন শপথ নেওয়া চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব এরই মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর বদল করা হয়েছে। গতকাল বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করেন।
শপথ নেওয়া নতুন চার মন্ত্রী হলেন– আব্দুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিব রহমান পার্থ। এর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন– হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)। টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হওয়া হুমায়ুন কবির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর শূন্য পদে আব্দুল মঈন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দায়িত্ব পান দীপেন দেওয়ান। কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা করা হয়েছে।
শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আব্দুল মঈন খান এর আগে খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে তথ্যমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার এমপি হয়েছিলেন।
সাচিং প্রু জেরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। একই সঙ্গে বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি এমপি হয়েছিলেন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁর বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন ব্যোমাং সার্কেলের রাজা। তিনিও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তাঁর বাবা আবদুল মোত্তালিব আকন্দ একই আসনের এমপি ছিলেন। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতিও তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হওয়ার পর তাঁকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হন।
৫২ জনের মন্ত্রিসভা
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন ২৬ জন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ২৪ জন। প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৫০ জনের। স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম পরের মাসে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। আর প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়েন ডেপুটি স্পিকার হওয়া কায়সার কামাল। এ সময় নতুন করে মন্ত্রিত্ব পান আজম খান। জুনে পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।
গতকাল যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন তাদের মধ্যে চারজন নতুন। পদোন্নতি পেয়েছেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আর উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির। ফলে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ৫২ জনে।
তারেক রহমানের সরকার শুরুতেই মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচজন উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যদায় পাঁচজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়। পরে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আরও তিনজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির গতকাল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর সংখ্যা এখন ১২। জহির উদ্দিন স্বপন উপদেষ্টার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে পেলে এই সংখ্যা হবে ১৩। তখন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা কমে হবে ৫১।
ইত্তেফাক
‘গ্যাস-বিদ্যুৎসংকট ঝুঁকি বাড়াচ্ছে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুত্সংকটে দেশের শিল্প খাতে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে টেক্সটাইল, ডাইং, পোশাক, ইস্পাত, খাদ্য ও নিত্যপণ্য উত্পাদনকারী কারখানাগুলোতে কমেছে উত্পাদন। কোথাও কারখানা বন্ধ, কোথাও সক্ষমতার অর্ধেকেরও নিচে উত্পাদন চলছে। এর প্রভাব পড়ছে উত্পাদন ব্যয়, রপ্তানি আদেশ, কর্মসংস্থান ও বাজারে পণ্যের সরবরাহে।
সামপ্রতিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ একপর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে (১৯৩ কোটি ঘনফুট) নেমে এসেছিল। ঐ সময় দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। অর্থাত্ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল প্রায় অর্ধেক। পরে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও গ্যাসের মোট প্রাপ্যতা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।
দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানা গত ১০ আগস্ট রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংকটে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। চিনি, ভোজ্য তেল, গম, আটা, ময়দা, সুজি, সিমেন্ট, কাগজ, এলপিজি ও ফিডসহ বিভিন্ন পণ্য উত্পাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। টি কে গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানাও বন্ধ রয়েছে। নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় উত্পাদন সক্ষমতা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে। বিএসআরএমেরও ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও সংকটের চিত্র তীব্র। হবিগঞ্জে ১৭১টি কারখানা কয়েক দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকার তথ্য এসেছে। নরসিংদী-মাধবদী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের কম চাপের কারণে উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে। টেক্সটাইলশিল্পে প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় উত্পাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকট একটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বায়াররাও আমাদের জ্বালানি বিষয়গুলো নিয়ে খোঁজ রাখছেন। অর্ডারের আগে তাদের জিজ্ঞাসা থাকে যে—আমরা পণ্য শিপম্যান্ট করতে পারব কি না। তেলের সমস্যা না থাকায় আমাদের গার্মেন্টসগুলোতে তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না। তবে স্প্যানিং মিলগুলোতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী দ্রুতই সরকার এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।’
বর্তমান সংকটের তাত্ক্ষণিক কারণগুলোর একটি মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহ-বিঘ্ন। ২১ জুলাই আগুনে টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবস্থার ক্ষতি হলে এটি দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকে। এতে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।
এলএনজি সরবরাহে আবহাওয়াজনিত বিঘ্নও হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালে ভিড়তে না পারায় সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কমে যায়। ঐ সময় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৫৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের মতো, বিপরীতে সরকারি চাহিদা ছিল প্রায় ৩৮৫ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।
তবে বর্তমান সংকটের ভিত্তি আরো দীর্ঘমেয়াদি। দেশীয় গ্যাস উত্পাদন কমছে এবং গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একটি সামপ্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে দৈনিক দেশীয় গ্যাস উত্পাদন প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট থাকলেও গত এক দশকে তা ১০০ কোটির বেশি কমেছে। বর্তমানে দেশীয় উত্পাদন ও এলএনজি মিলিয়ে সর্বোচ্চ সরবরাহ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুত্ উত্পাদনে: গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে বিদ্যুত্ উত্পাদনেও। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে একপর্যায়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। পরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট উত্পাদনে ফিরতে পারে।
ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি একই সঙ্গে শিল্পের ওপর চাপ তৈরি করছে। গ্যাসের অভাবে বয়লার, চুল্লি ও উত্পাদনযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। আবার বিদ্যুৎ না থাকলে উত্পাদন লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বাড়ছে উত্পাদন ব্যয় :বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উত্পাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন কিছু উদ্যোক্তা। এতে সরাসরি বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়। শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘তিলোত্তমা থেকে বসবাসের অযোগ্য রাজধানী ঢাকা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত নগরায়ণের চাপে রাজধানী ঢাকা এখন নানা সঙ্কটের ভারে জর্জরিত। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর থাকলেও বর্তমানে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে উন্নীত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৩০ সাল নাগাদ ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল শহরে পরিণত হবে। কিন্তু এই জ্যামিতিক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে সেবার মান ও প্রশাসনিক সক্ষমতা কেবল তলানিতেই ঠেকেনি, বরং একপ্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমানে নগরায়ন এখানে কেবল একটি প্রাণহীন পরিসংখ্যান, যেখানে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ন্যূনতম মানও উপস্থিত নেই।
হারিয়ে যাওয়া ৫৬ খাল ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতার অভিশাপ: সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত নয়; বরং আমাদের অপরিকল্পিত ও বলপ্রয়োগকারী নগরায়ন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এলাকায় ১০৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এলাকায় ৩৫টি স্থান রয়েছে। ঢাকা ওয়াসা শহরের ৪৮টি এলাকাকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ।
নগর গবেষক খন্দকার গোলাম তাওহিদের গবেষণা থেকে জানা যায়, একসময় ঢাকা শহরে প্রায় ৫৬টি প্রাকৃতিক খাল প্রবাহিত হতো; কিন্তু আজ সেই ৫৬টি খালের মধ্যে ২৬টির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা নামনিশানা নেই। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ড্রেনেজ-ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নদী ও ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, গত আট দশকে ঢাকা শহর প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রাকৃতিক খাল হারিয়েছে। এই খালগুলো কখনো পুরোপুরি ভরাট করা হয়েছে, কখনো দখলদারদের কবলে পড়ে সঙ্কুচিত হয়েছে, আবার কখনো ‘বক্স কালভার্ট’ বানিয়ে মাটির নিচে চাপা দেয়া হয়েছে।
রাজউকের আওতাধীন এলাকায় একসময় প্রায় তিন হাজার পুকুর ছিল, যার মধ্যে এখন মাত্র ২২৫টি কোনোমতে টিকে আছে। বুয়েটের পানি ও বন্যাব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের (আইডব্লিউএফএম) মতে, ঢাকায় এখন জলাশয়ের পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশেরও কম।
শব্দের তীব্রতায় বধিরতা ও দৃশ্যদূষণের নীরব ক্ষত: শব্দদূষণ ঢাকার নাগরিকদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য আরেকটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন অনুযায়ী নীরব এলাকায় শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৫০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় ৫৫ ডেসিবেল এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু হাসপালের সামনেও শব্দের মাত্রা ৮৯ দশমিক সাত ডেসিবেল পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮১টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র তিনটি ওয়ার্ডে শব্দের মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর বিশেষজ্ঞ ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, দৃশ্যদূষণ হলো জনস্বাস্থ্য, সড়ক নিরাপত্তা ও নান্দনিকতার জন্য এক নীরব হুমকি, যার মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা।
জনস্বাস্থ্যের চরম হুমকি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ছোবল: ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবেশের অবনতি সরাসরি আঘাত হানছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ এখন ঢাকার ঘরে ঘরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে তিন লাখ ২৩ হাজারের বেশি ডেঙ্গু সংক্রমণ এবং রেকর্ড এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত বছর প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৪০০ জন। ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বাশার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অনিয়মিত পানি সরবরাহের কারণে মানুষ বাসাবাড়িতে বালতি বা পাত্রে পানি জমিয়ে রাখে, যা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির মূলকারণ।
বিষাক্ত বাতাসে পুড়ছে ফুসফুস: ঢাকার পরিবেশগত সঙ্কটের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও দৃশ্যমান হলো এর বায়ুদূষণ। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু দূষণের ৮৫ শতাংশ শহরের চারপাশের ইটভাটা, রাস্তাঘাটের ধুলাবালু ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ ও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া ও নির্গমন। ঢাকার আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই হাজার ঐতিহ্যবাহী বা প্রচলিত ইটভাটা সচল রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। অন্য দিকে সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) সমীক্ষা মতে, বায়ুদূষণজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ বা তারও বেশি মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হচ্ছে। ঢাকার বাতাস আজ কেবল ধূলিময় নয়- এটি পরিণত হয়েছে এক নীরব ঘাতকে।
সবুজের হাহাকার ও কংক্রিটের নির্মম খাঁচা: ঢাকা আজ পরিণত হয়েছে এক ধূসর কংক্রিটের জঙ্গলে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিএসসিসির মোট ৯৯ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে মাত্র সাত দশমিক ৯৯ শতাংশ এলাকায় ঘন সবুজ স্থান বা গাছপালা রয়েছে। এটি একটি বাসযোগ্য শহরের জন্য অত্যন্ত নগণ্য। ফলে নাগরিকরা একটু বুক ভরে শ্বাস নেয়ার মতো সবুজ স্থান থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
৭ কিলোমিটারের কচ্ছপ গতি ও ৩৭ হাজার কোটির ক্ষতি: ঢাকার যানজট শুধু নাগরিকদের সময় নষ্ট করছে না, এটি দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিগত এক দশকে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে চরম যানজটের কারণে ঢাকার গড় গতি এখন ৪ কিলোমিটারেরও নিচে নেমে গেছে। বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গবেষণা মতে, যানজটে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এবং এর ফলে বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা! এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি ঢাকার দু’টি পূর্ণাঙ্গ মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের ব্যয়ের সমান।
অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমি ব্যবহার: ঢাকার অনেক শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে। বিবিএসের জনশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে বাস করছে চার কোটি ৪৪ লাখ মানুষ, এই দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৃষিজমি ও জলাভূমি ক্রমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া পুরান ঢাকার সঙ্কীর্ণ অলিগলিতে আবাসিক ভবনের ভেতরেই গড়ে উঠেছে হাজার হাজার দাহ্য রাসায়নিকের গুদাম। একটি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল বা রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৫ হাজার গুদামের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে বিস্ফোরণে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। ঢাকার বর্জ্যব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নগরায়নের গতির সাথে তাল মিলিয়ে গড়ে ওঠেনি।
বণিক বার্তা
‘ইউরোপ-যাত্রায় ৯ রুটে প্রাণ গেছে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক থেকে নৌকায় উঠেছিলেন ৩৮ বাংলাদেশী। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছার লক্ষ্য ছিল রাবারের নৌকাটির।
কিন্তু মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই টানা ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকেন আরোহীরা। এর মধ্যে মারা যান ৯ বাংলাদেশী। তাদের সবার মরদেহ ফেলে দেয়া হয় সাগরেই। বেঁচে থাকা বাকি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছলে পুলিশ তাদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের তরুণ মেহেদী হাসান। আর গত ১৬ আগস্ট একই উপকূল থেকে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লিবিয়ার উপকূল থেকে ২০২৪ সালের এক রাতে নৌকায় উঠেছিলেন এক বাংলাদেশী তরুণ। পরিবারের কাছে তার শেষ বার্তা ছিল—‘ইতালি পৌঁছলে ফোন দেব।’ এরপর আর কোনো ফোন আসেনি। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যরা দালাল, পরিচিতজন ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি তিনি ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছেন, নাকি কোনো অজ্ঞাত পথে হারিয়ে গেছেন। পরিবারের কাছে তিনি আজও নিখোঁজ।
এটি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়, অবৈধ বা অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে এমন পরিণতির শিকার হয়েছেন হাজারো বাংলাদেশী। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট’-এর গ্লোবাল ডেটাবেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের নয়টি অনিয়মিত অভিবাসনপথে ঘটে যাওয়া ৮৪টি পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩২৯ বাংলাদেশী মারা গেছেন এবং আরো ৮৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অর্থাৎ গত এক দশকে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর কোনো না কোনোভাবে মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এ মৃত্যুর মানচিত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর পথটি ভূমধ্যসাগর। লিবিয়া বা তিউনিসিয়া থেকে এ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছার চেষ্টায় ১ হাজার ১৭১ বাংলাদেশী মারা গেছেন এবং নিখোঁজ হয়েছেন ৭৭৩ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যু ও নিখোঁজের প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে শুধু এ রুটে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ-যাত্রায় ভয়াবহতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০১৫ সাল। ওই বছর মাত্র চারটি ঘটনায় ৯২৪ বাংলাদেশী নিহত ও ৩৬৩ জনকে নিখোঁজ হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ফলে এক বছরেই এ রুটে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৮৭-এ।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এ সংখ্যা প্রকৃত চিত্রের চেয়ে কম। কারণ সমুদ্রপথে অনেক নৌযান নিখোঁজ হলেও যাত্রী বা মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। আইওএমের ভাষ্য অনুযায়ীও অভিবাসনপথে মৃত্যু ও নিখোঁজের তথ্য সংগ্রহে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রে নিখোঁজদের সংখ্যা নিরূপণ অত্যন্ত কঠিন।
অভিবাসনের স্বপ্নে যারা দেশ ছাড়েন, তাদের কাছে ইউরোপ অনেক সময় শুধু একটি গন্তব্য নয়; পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতিশ্রুতি। জমি বিক্রি, ঋণ নেয়া কিংবা স্বজনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে অনেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য বা উত্তর আফ্রিকার কোনো দেশে পৌঁছান। এরপর শুরু হয় ইউরোপের উদ্দেশে বিপজ্জনক এ যাত্রা।
সবাই অবশ্য সাগরে পৌঁছতে পারেন না। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিতে গিয়েই অন্তত ৩৮ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকা বা আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছার পথে মারা গেছেন আরো একজন, নিখোঁজ হয়েছেন ২২ জন। তুরস্ক-ইউরোপ স্থলপথে ২০ বাংলাদেশীর মৃত্যুর তথ্যও নথিভুক্ত হয়েছে।
তথ্যগুলো দেখায়, অনিয়মিত অভিবাসনের বিপদ শুধু নৌকাডুবি বা ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের পথে যাত্রা শুরু হওয়ার পর মরুভূমি, সীমান্ত, মানব পাচারকারী চক্র এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই অনেকের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।
আরো কয়েকটি পথেও বাংলাদেশীদের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট বা অন্যান্য দ্বীপে যাওয়ার পথে পাঁচজন মারা গেছেন। ইরান হয়ে তুরস্ক ও ইতালি থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার পথেও মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে সংখ্যার বাইরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—নিখোঁজদের কী হয়েছে? আইওএমের হিসাবে ৮৫৯ জন নিখোঁজ। তাদের অনেকের মরদেহ হয়তো কখনো উদ্ধার হয়নি, আবার কেউ কেউ এমন কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, যার কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। ফলে পরিবারের জন্য স্বজনের মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পাওয়ার সুযোগও থাকে না। অপেক্ষাই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র বাস্তবতা।
এ চিত্র বাংলাদেশের অনিয়মিত অভিবাসনের আরেকটি অন্ধকার দিক সামনে আনে। ইউরোপে পৌঁছতে না পারার ব্যর্থতার হিসাব যেমন নেই, তেমনি মৃত্যুর পরও অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। ফলে সরকারি নথি, আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে ব্যবধান থাকার আশঙ্কাও থেকে যায়।
মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মিসরে সাতটি ঘটনায় ৭০ বাংলাদেশীকে নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ভূমধ্যসাগরে হারিয়ে গিয়েছিলেন। কেউ তিনদিন, কেউ চারদিন ভাসমান ছিলেন; সে অবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করেছে।’
সম্প্রতি আইওএমের প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ওভারভিউ অব মাইগ্রেশন রুটস’ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ভূমধ্যসাগর রুটে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ইতালিতে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীরা শীর্ষ। এ সময়ে মোট ৮ হাজার ৫৭৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী এ রুট ব্যবহার করে দেশটিতে পৌঁছেন, যার ৩০ শতাংশের উৎস দেশ বাংলাদেশ। যদিও ২০২৫ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শতাংশের হিসাবে কিছুটা কমলেও মূল উৎস হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এ রুটটি মূলত উত্তর আফ্রিকার দেশ, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘মির্জা ফখরুলের নতুন অধ্যায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এবার তিনি হলেন রাষ্ট্রের কান্ডারি। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে গতকাল শুক্রবার শপথ নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবার তাঁর নতুন অধ্যায় শুরু হলো বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে।
বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে গতকাল সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও বিদেশি কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানাতে বঙ্গভবনে এসেছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ, ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ, বড় মেয়ের স্বামী ফাহাম আব্দুস সালাম এবং ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ও মির্জা ইকবাল আমিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিদের সারিতে ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান- বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বরকতউল্লা বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেল বঙ্গভবন। মাঝের সময়টাতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পরে রাষ্ট্রপতি পদে এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ভোট পান ২৫৫টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের বাক্সে পড়ে ৮৮ ভোট।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দরবার হলে প্রবেশ করেন তিনি।
দরবার হলের মঞ্চে তিনটি আসন ছিল। মাঝের আসনে বসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর ডানের আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাঁয়ে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তাঁরাসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা নিজেদের আসন থেকে উঠে দাঁড়ালে ব্যান্ডদলের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত বাজান। এরপর আসন গ্রহণ ও শপথ অনুষ্ঠান শুরুর অনুমতি প্রার্থনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথ পাঠ করানোর জন্য অনুরোধ জানান। তখন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। শপথ পাঠ শেষ হলে শপথনামায় সই করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথনামা সত্যায়িত করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার।
শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।’
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল শপথ নেওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন তাঁকে মাঝের আসন ছেড়ে দিয়ে ডানের আসনে বসেন। মাঝের আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। এর কিছুক্ষণ পর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল মঞ্চ ছেড়ে উঠে যান। তখন শুরু হয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান। প্রথমে চার মন্ত্রীকে এবং পরের ধাপে দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নতুন রাষ্ট্রপতি কাল রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে। সেদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা করবেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার বঙ্গভবনে ২ নম্বর গেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেবে। এ পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে তাঁর কার্যালয়ে যাবেন।
রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পর তাঁকে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শ্রদ্ধা জানানোর পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিন্টো রোডের বাসায় ফিরবেন। এরপর তিনি তাঁর গুলশানের বাসভবনে যেতে পারেন।
দেশ রূপান্তর
‘প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরে নিতে ভারতের চেষ্টা অব্যাহত’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অথবা সম্ভব হলে তার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের জন্য দেশটির পক্ষ থেকে চেষ্টা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় সরকারের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গ তুলছেন। এর বাইরে ভারতীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রিকস সম্মেলনের সময় অথবা সম্ভব হলে আরও আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরটি নিশ্চিত করার জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গতকাল কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে করা এক প্রতিবেদনে বলেছে, তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে তার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর ঘিরে গতকাল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যে তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর কর্মসূচির পূর্ণ মহড়ার জন্য (আজ) শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে গার্ড পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা হবে না।’
বাাংলাদেশ ও ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি সফরের সাধারণত ২/৩ দিন আগে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি জানায়। এমন ঘোষণা আসার আগেই ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করায় কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে মহড়ার ঘোষণা দেওয়া বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়।
বিদেশি রাষ্ট্র অথবা সরকারপ্রধানের ভারত সফরের সময় রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘ফোরকোর্ট’ হিসেবে পরিচিত সামনের খোলা চত্বরে জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা দীর্ঘদিনের একটি কূটনৈতিক ও সামরিক ঐতিহ্য। এই অনুষ্ঠানে বিদেশি ভিভিআইপিকে ভারতের সশস্ত্রবাহিনীর তিন শাখার (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সমন্বয়ে একটি বিশেষ গার্ড-অব-অনার দেওয়া হয়। তখন দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। উভয়পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ভিভিআইপিরা পরিচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান গত ফেব্রুয়ারিতে শপথ গ্রহণের পর দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য ভারত সফরের জন্য দেশটির সরকার আমন্ত্রণ জানায়। তবে সেই আমন্ত্রণে কোনো তারিখ প্রস্তাব করা হয়নি। এর বাইরে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ কর্মসূচিতে বিমসটেক-এর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী চলতি আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় তারেক রহমান এবং নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ মাসেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে নিতে জোর তৎপরতা চলতে থাকে। তবে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৬ আগস্ট এক ব্রিফিংয়ে জানায়, সরকার মনে করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, সফরটির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে গত ৫ আগস্ট গণমাধ্যমে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে সফরের প্রস্তুতির প্রক্রিয়া কলুষিত করা হয়েছে।
সরকার ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদীর খুনে অভিযুক্তসহ ভারতে পলাতক থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশে সফরে যাবে না, এমন নয়। তিনি যাবেন। তবে সফরটি ঠিক কখন হবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের ভারতে যাওয়া বহুপক্ষীয়-মঞ্চের পার্শ¦-বৈঠকের পরিবর্তে একটি পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত।