রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে এখন নতুন টানাপোড়েন দৃশ্যমান। বিশেষ করে তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কানের প্রতি সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ আমেরিকার অস্ত্র বাজারের একাধিপত্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে জমকালো সংবর্ধনা দিয়ে অত্যাধুনিক এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বাস্তবতা এখন ভিন্ন মোড় নিচ্ছে। 

মার্কিন কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, তারা সৌদি আরবের কাছ থেকে পাকিস্তানের জেএফ-সেভেন্টিন যুদ্ধবিমান না কেনার নিশ্চয়তা পেলেও তুর্কি যুদ্ধবিমানের বিষয়ে রিয়াদের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাননি। ওয়াশিংটন মনে করছে, সৌদি আরব যদি তুরস্কের কাছ থেকে এই যুদ্ধবিমান কেনে, তবে তা আমেরিকার বিপুল অংকের সম্ভাব্য বাণিজ্য কমিয়ে দেবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব এখানে দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে তারা আমেরিকার কাছ থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এফ-থার্টি ফাইভ নিশ্চিত করতে চাইছে। অন্যদিকে তুরস্কের সাথে সহ-উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। আমেরিকার অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সবসময় ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার একটি বাধ্যবাধকতা থাকে। যার ফলে সৌদি আরব চাইলেও অনেক সময় পূর্ণ সক্ষমতার মার্কিন প্রযুক্তি পায় না। 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সৌদি আরবকে হয়তো ইসরায়েলের তুলনায় নিম্নমানের এফ-থার্টি ফাইভ দেওয়া হবে। ঠিক এই জায়গাটিতেই রিয়াদ বিকল্প হিসেবে আঙ্কারার দিকে ঝুঁকছে, কারণ তুরস্ক কেবল বিমান বিক্রি নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশেও অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিচ্ছে।

তবে এই অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এর পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গভীর ভূ-রাজনীতি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার বিপরীতে সৌদি আরব এখন তুরস্ক, কাতার, মিশর এবং পাকিস্তানের সাথে একটি নতুন ব্লক তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সুদান ও ইয়েমেন ইস্যুতে আমিরাতের সাথে রিয়াদের মতপার্থক্য এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী তারা তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটের অর্ধেক অংশ স্থানীয়ভাবে ব্যয় করতে চায়, যা কি না মার্কিন নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি এবং সৌদি আরবের বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশলের এই সংঘাত আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: মিডলইস্ট আই



বিডি প্রতিদিন/নাজমুল



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews