দেশের পতাকা হাতে সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেনে ৩৩ তম আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার ম্যারাথনে দৌড়ালেন জার্মানির মিউনিখে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসী দৌড়বিদ শিব শংকর পাল।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের ৬৬টিরও বেশী দেশের প্রায় ৪০০০ এ্যাথলেটদের সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে সবচেয়ে সুন্দরতম ম্যারাথন সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেনে অনুষ্ঠিত ইয়ুংফ্রাউ দূরপাল্লার এই ম্যারাথনে ৪২.২ কিলোমিটার পাহাড় পর্বত ঘেরা উঁচুনিচু পথ সাফল্যের সঙ্গে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেছেন শিব শংকর।
সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার অন্যতম একটি উচ্চতম পর্বত হলো ইয়ুংফ্রাউ যার উচ্চতা চার হাজার মিটারেরও বেশী। পর্বতটির ৫৬৮ মিটারের একটি ক্যাম্প থেকে শুরু করে বইনিংগেন, ভিল্ডার্সভিল, ৮১২ মিটারের লাউটারব্রুনেন পয়েন্ট, ১২৮৩ মিটারের ভেনগেন পর্বত তারপর সর্বোচ্চ পর্বতমালা ২৩২০ উঁচুতে আইগারগ্লেটশার নামক স্থানে এসে শেষ করতে শিব শংকর সময় নিয়েছেন সাড়ে তিনঘন্টার কাছাকাছি সময়।
ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্ম নেয়া শিব শংকর একজন সৌখিন দৌড়বিদ। তার প্রিয় ইচ্ছে গুলোর একটি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য ম্যারাথনগুলোতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরা। শিব শংকরই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি আন্তর্জাতিক নানা ম্যারাথনে শতাধিকবার অংশ নিয়ে গৌরবের সাথে ফিনিশিং লাইন শেষ করেছেন।
এবারো দৌড় শেষ করে শিব শংকর পাল জানান, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার মত অহংকারের আর কিছুই হতে পারেনা। তিনি বলেন এই ম্যারাথনটি বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুন্দর তবে কঠিন সব পর্বতমালা পাড়ি দেয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পাওয়ার মত সুন্দর বিষয় আর কিছুতেই হতে পারেনা।
আমি ১০ম বারের মত এই ম্যারাথনেই অংশ নিয়েছি। এই স্ট্রেকেটা আমার প্রিয় বলে জানান সৌখিন দৌড়বিদ শিব শংকর। সব মিলিয়ে এটি তাঁর ১৪৩তম আন্তর্জাতিক ম্যারাথন।
ম্যারাথনে সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় নাগরিক ছাড়াও নানা দেশের পর্যটকসহ শিব শংকরের স্ত্রী শিখা শংকর পালসহ তার সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন।
সৌখিন এই দৌড়বিদ নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ১৯৮৯ সালে জার্মানিতে পাড়ি জমান। ১৯৯৯ সালে জার্মানির মিউনিখে পাল ইলেক্ট্রো নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বেশ কয়েকবার জার্মানির মিউনিখ শহর কর্তৃপক্ষ তাঁকে সফল ব্যবসায়ীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করে।