বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ পালনের কথা আমাদের অজানা নহে । চোর-ছিনতাইকারী এবং অজ্ঞান ও মলম পার্টিরও কি বিশেষ পার্বণ রহিয়াছে? অনেকে মনে করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা হইল তাহাদের জন্য এক মহাপার্বণ । ঈদুল ফিতরের এক মাস হইতেই শুরু হয় মানুষের কেনাকাটা । আর পবিত্র ঈদুল আজহার কয়েক সপ্তাহ পূর্ব হইতে জমিয়া উঠে কোরবানির হাটবাজার । এই সকল অপরাধী এই সময়টাকে মোক্ষম সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে । বর্তমানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন যতই ঘনাইয়া আসিতেছে, ততই এই সকল মৌসুমি অপরাধ চক্রের অপতৎপরতা বাড়িয়া চলিয়াছে । তাহাদের দৌরাত্ম্যের কারণে জনজীবনে দেখা দিয়াছে আতঙ্ক । তাহারা কেবল পথচারী বা ক্রেতা-বিক্রেতার পকেট শূন্য করিতেছে না, বরং অটোরিকশা হইতে শুরু করিয়া বিলাসবহুল প্রাইভেট কার ছিতনাইয়ের দিকেও মনোযোগী হইয়াছে!

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় একজন অটোরিকশা চালকের ধারদেনা করিয়া ক্রয় করা অটোরিকশাটি হাতাইয়া লওয়া হইয়াছে । জানা যায়, তাহাকে চেতনানাশক ঔষুধমিশ্রিত চা খাইতে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাহাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হইলে সেইখানে এমন আরো কিছু রোগীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায় । ইহাতে প্রমাণিত হয়, এই ধরনের ঘটনা ক্রমশ বাড়িতেছে । এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক মাসে কেবল রাজধানীতেই ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাইয়াছে প্রায় ৩০ শতাংশ । ইহার পাশাপাশি মহাসড়কগুলিতে হানা দিতেছে ডাকাতের দল । এমনকি ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মানুষের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাইতেছে। গতকালের সবচাইতে আলোচিত খবর হইল, এই দিন ভোরে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ডিউটিরত অবস্থায় একজন এএসআই তাহার সরকারি পিস্তলটি হারাইয়াছেন ছিনতাইকারীর নিকট । তিন জন ছিনতাইকারী তাহার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এবং তাহার সহিত থাকা সরকারি পিস্তলটি ছিনাইয়া লয়। এখন প্রশ্ন উঠিতে পারে, পুলিশের অস্ত্র যদি পুলিশই রক্ষা করিতে না পারে, তাহা হইলে সাধারণ জনতা কি নিজেদের পকেটের মানিব্যাগ রক্ষার্থে বর্ম পরিধান করিবেন? পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন হইতেছে, তাহাদের জীবনে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগিতেছে; কিন্তু রাজপথের ‘ছিনতাইকারী বাহিনী’ কি পুলিশের চাইতেও অধিক ক্ষিপ্র, দুঃসাহসী ও আধুনিক হইয়া উঠিয়াছে! তাহারা এখন পুলিশের টহল গাড়িকেও যাত্রী মনে করিয়া হানা দিতে কুণ্ঠাবোধ করিতেছে না!

এই পরিস্থিতিতে ঈদ উপলক্ষ্যে শপিং মল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা আবশ্যক । মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির মূল উৎপাটনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করাও জরুরি । যাহারা পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই করিবার স্পর্ধা দেখায়, তাহাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করিতে পারিলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কেবল কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকিবে । তাহাদের কঠোর হস্তে দমন করিতে হইবে যাহাতে তাহারা জনগণের ঘুম হারাম করিয়া ঈদের আনন্দ মাটি করিয়া দিতে না পারে ।

উল্লেখ্য, এই বার পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে শুধু রাজধানী হইতে দেড় কোটির মতো মানুষ গ্রামে যাইতেছেন । নাড়ির টানে গ্রামে ফিরিয়া যাওয়া এই সকল ঘরমুখী মানুষকে টার্গেট করিয়া থাকে অপরাধী চক্র । তাহারা পথেঘাটে মানুষের সর্বস্ব লুট বা ছিনতাই করিয়া লইতে ওত পাতিয়া থাকে । অবশ্য এই বার পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশের সকল বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা ও সড়কপথে চুরি-ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে বলিয়া দাবি করা হইতেছে । ছুটির সময় শহরে-নগরে ডাকাতি রোধেও লওয়া হইতেছে বিশেষ ব্যবস্থা। পুলিশ বাহিনীর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরও খোদ পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই হয় কীভাবে? আমরা মনে করি, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই মৌসুমি অপরাধীদের নির্মূল করা মোটেও অসম্ভব নহে ।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews