উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে এর মধ্যে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত এবং ইরানের কয়েকটি রাডার স্থাপনায় আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, “ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।”
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন- এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরান যে দাবি করেছে, তা সরাসরি নাকচ করেছে সেন্টকম। বিবৃতিতে বলা হয়, “বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘটনার পর কুয়েত, বাহরাইন এবং আশপাশের উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে হামলার ফলে কোনও বেসামরিক হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/একেএ