সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কোনো মাবুদ বা ইলাহ নেই। এটাই ইমানের মূল ভিত্তি। তাই আল্লাহর বান্দাগণ আসুন, আল্লাহকে ভয় করি, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর মহিমা বর্ণনা করি এবং অতীতের ভুলত্রুটির জন্য তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসি এবং তাঁর অবাধ্য যেন না হই (নির্দেশ আহযাব : ৭০-৭১)। একই সঙ্গে আমাদের সেই দিনের কথা স্মরণ করা উচিত যেদিন আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাব এবং প্রত্যেক আত্মা তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান পাবে (আল ইমরান-১৮৫)। সেদিন কারও প্রতি অবিচার করা হবে না। গোপন ও প্রকাশ্যে উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করা উচিত। কারণ এর মধ্যেই সব কৃতকল্যাণ নিহিত আছে। নিশ্চয়ই নিশ্চিত থাকা উচিত কেননা আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা আমাদের পুরস্কৃত করবেন এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী সত্যনিষ্ঠ আবাসের ব্যবস্থা করবেন (হাশর-১৮ ও ২০ এর শেষাংশ)।

হে মুমিনগণ! এই হলো সেই মহিমান্বিত পবিত্র মাসগুলো এবং এই হলো সেই উজ্জ্বল হজের মাসগুলো যা জাতির আকাশে উদ্ভাসিত হয়েছে, এদের আলোতে রাত্রি উজ্জ্বল ও দিন ঝলমল করছে। এদের ফুল বাতাসে সুসংবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং ফল কল্যাণ ও বরকত বয়ে এনেছে। এই মাসগুলোর গুণাবলি তীর্থযাত্রীদের হৃদয় উজ্জ্বলভাবে উদ্ভাসিত হয় ও হয়েছে। আর সামর্থ্যবান তীর্থযাত্রীদের দল আল্লাহর ঘরের দিকে সমাগত হচ্ছে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে। প্রতিনিধিদল তাদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মহৎ ভূমিতে পৌঁছাতে শুরু করছে। প্রখর সূর্যের তাপ সত্ত্বেও উহার নিচে ভ্রাতৃত্বের চেতনা ও নির্মল পোশাকের পবিত্রতায় লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে তারা উদ্ভাসিত।

ইসলামের আবির্ভাব হয়েছে যে পুণ্যভূমিতে যেখান থেকে নবী ও রসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন এবং যুগ যুগ ধরে শ্রদ্ধা ও মহত্ত্বের আবাসে এসে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে আসছেন। এখানেই কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এখানেই মানবজাতির রহমতস্বরূপ প্রেরিত নবী মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ (সা.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন ও বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। সব ভূমি যতই সুন্দর হোক না কেন, তার মধ্যে অনন্য রত্ন হচ্ছে মক্কা। তাই কাবা জিয়ারত করতে মুসলিমরা কখনো থামেনি ও থামবে না। সর্বশক্তিমান আল্লাহ এই পবিত্র ভূমি মহান গুণাবলি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, নিঃসন্দেহে এটিই প্রথম ঘর যা মানুষের ইবাদতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা বাক্কায় অবস্থিত এবং সারা বিশ্বের হেদায়েত ও বরকতময় (আল-ইমরান-৯৬)। যা খুব জরুরিবায়তুল্লাহ হচ্ছে : পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সম্মানিত পবিত্র স্থান। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এই ঘরের দিকে মুখ করে আদায় করেন। হজ ও ওমরার কেন্দ্রস্থল যেখানে লাখ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে পালন করে। আল্লাহ এই স্থান মানুষের জন্য মিলনমেলা ও নিরাপদ ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহর কিতাবে ও তাঁর বিধানে ১২টি মাস যেদিন থেকে আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন তখনই তার মধ্যে চারটি মাস পবিত্র করেছেন। এই মাসগুলোতে আমরা যাতে নিজেদের প্রতি জুলুম না করি তার নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ বুখারি)। সহিহ মুসলিম থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা মহানবী (সা.) স্পষ্ট করেছেন হাদিস হলো : বিদায় হজের সময় নবী (সা.) একটি খুতবায় বলেন, সময় তার আদি অবস্থাতে ফিরে এসেছে যেদিন আল্লাহ আকাশ, জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। বছরগুলো ১২ মাসের মধ্যে চারটি মাস পবিত্র পরপর তিনটি মাস জিলকদ, জিলহজ, মহররম এবং অন্যটি রজব যা উদার মাস হিসেবে পরিচিত এবং জুমাদা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী। তাই মাসগুলোতে মুমিনদের সর্বোচ্চ গুণাবলি ও তার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হলো সূক্ষ্ম অনুভূতি জীবন্ত হৃদয় এবং এমন সচেতন মন অর্থাৎ আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তার থেকে বিরত থাকা এবং তিনি যা মহিমান্বিত করেছেন তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা।

তা পালনের মাধ্যমে যেন বিশুদ্ধ ইমান ও অবিচল আনুগত্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ স্থাপন করতে পারি। তাই এই মাসগুলোতে যেন কোনোভাবেই পাপ না করি, সীমা লঙ্ঘন ও  নিজেদের কলুষিত না করি, সে ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের অসৎকর্ম পরিত্যাগ করে সৎপথে চলার তৌফিক দান করেন। আমিন।

♦ লেখক : ইসলামি গবেষক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews