রোজার সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। অনেকেই লক্ষণ বুঝতে পারেন, আবার কেউ কোনো উপসর্গ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারেন। তাই বিশেষজ্ঞরা অনুমানের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিয়মিত সুগার মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। এতে দ্রুত হাইপোগ্লাইসেমিয়া (সুগার কমে যাওয়া) বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া (সুগার বেড়ে যাওয়া) শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ব্লাড সুগার মাপলে কি রোজা ভাঙে?
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের রমজান নির্দেশিকা অনুযায়ী, আঙুলে সূচ ফোটিয়ে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা নষ্ট হয় না। তাই রোজা অবস্থায় ব্লাড সুগার পরীক্ষা করতে দ্বিধার কোনো কারণ নেই।
সাধারণ ঝুঁকির রোগীদের জন্য পরামর্শ
যাদের ডায়াবেটিস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে, তাদের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত। যেমন—
এ সময়গুলোতে পরীক্ষা করলে রোজা অবস্থায় রক্তে শর্করার পরিবর্তন সহজে বোঝা যায়। কোনো অস্বাভাবিক মাত্রা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিরাপদে রোজা পালনের জন্য নিয়মিত সুগার মনিটরিংকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ইফতারে পেঁপে খাবেন না যারা

উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্য নির্দেশনা
টাইপ–১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, ইনসুলিন ব্যবহারকারী বা যাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই— তাদের দিনে ৪ থেকে ৫ বার অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও বেশি বার সুগার পরীক্ষা করতে হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার কমে গেলে কিংবা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার বা তার বেশি হলে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা বা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রোজার সময় ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা বাড়তি সতর্কতা নয়, বরং নিরাপদে রোজা পালনের অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত পরীক্ষা করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে এবং রোজাও নিরাপদ থাকে।