বাংলাদেশ্বের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অর্থনীতি একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, ঋণ-সুদ ব্যয়, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, কর্মসংস্থানসংকট, জলবায়ুঝুঁকি এবং এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। ফলে এই বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি আসলে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, ঝুঁকি বোঝার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন দর্শনের পরীক্ষা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা। এটি বড় বাজেট এবং রাজনৈতিকভাবে উচ্চাভিলাষী বাজেটও বটে।  সরকার ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নিয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, সামাজিক খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর প্রণোদনার প্রস্তাব আছে। এসব ইতিবাচক। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, এই বাজেট কি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রকৃতি, জীবিকা, খাদ্য, জ্বালানি ও জলবায়ু নিরাপত্তাকে একীভূত রূপান্তরের পথে নিতে পারবে?

বাজেটের প্রধান শক্তি : উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক খাত ও কিছু সবুজসংকেত

এই বাজেটের একটি ইতিবাচক দিক হলো উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর চেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ্বের বাজেটে পরিচালন ব্যয়, ভর্তুকি, সুদ পরিশোধ এবং অদক্ষ প্রকল্প ব্যয়ের চাপ উন্নয়ন ব্যয়ের মানকে দুর্বল করেছে। এবার উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর ঘোষণা অন্তত নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবও ইতিবাচক, বিশ্বেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা যখন কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; ভাতা, খাদ্যসহায়তা, নগদ সহায়তা এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচিকে বাস্তব দরিদ্র, জলবায়ু-আক্রান্ত, নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমজীবীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এখানে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি, ডিজিটাল যাচাই ও স্থানীয় পর্যায়ের জবাবদিহি জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হলো সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য করহার এবং সৌরবিদ্যুৎ বিলের ওপর ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব। এটি দেরিতে হলেও সঠিক পদক্ষেপ। বাংলাদেশ্বের জন্য জ্বালানিনিরাপত্তা যথেষ্ট নয়; দরকার জ্বালানি সার্বভৌমত্ব। জ্বালানি সার্বভৌমত্ব মানে শুধু বিদ্যুৎ পাওয়া নয়; বরং আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, স্থানীয় উৎপাদন, কমিউনিটিভিত্তিক শক্তি ব্যবস্থা, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ এবং প্রকৃতি ধ্বংস না করে উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা : বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্য বাস্তবতার চেয়ে বেশি আশাবাদী

প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য। ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কর প্রশাসনে গভীর সংস্কার, কর ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল অডিট, উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীর কর ন্যায্যতা, সম্পদ করের কার্যকর প্রয়োগ এবং কর অব্যাহতির রাজনৈতিক অর্থনীতি সংস্কার করতে হবে। শুধু করের আওতা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়ালে তা অর্থনীতিকে চাঙা করবে না; বরং ভোগক্ষমতা কমাবে। বাংলাদেশ্বে বহু বছর ধরে বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা উচ্চ ধরা হয়, পরে বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণ বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগে চাপ পড়ে, মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং সরকারের সুদ ব্যয় আরও ফুলে ওঠে। তাই এই বাজেটের রাজস্ব কৌশলকে শুধু সংগ্রহের কৌশল নয়, ন্যায্যতার কৌশল করতে হবে। করনীতি যেন গরিবের ভাত, কৃষকের উৎপাদন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুঁজি এবং মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে শাস্তি না দেয়।

ঋণ ও সুদ ব্যয় : উন্নয়নের জায়গা খেয়ে ফেলছে অতীতের দায়

বাজেটে সুদ পরিশোধের চাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ বরাদ্দ মানে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু অভিযোজন ও নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য জায়গা সংকুচিত হওয়া। ঋণ নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো ঋণ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, কী শর্তে নেওয়া হচ্ছে, কী রিটার্ন দিচ্ছে এবং তা জনগণ ও প্রকৃতির অধিকার রক্ষা করছে কি না। বাংলাদেশ্বের উন্নয়ন অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে মেগা প্রকল্প, আমদানিনির্ভর জ্বালানি, ভর্তুকিনির্ভর বিদ্যুৎ এবং উচ্চ ব্যয়ের অবকাঠামোতে আটকে ছিল। এর ফল হলো বাজেটে সুদ ও ভর্তুকির চাপ। নতুন বাজেট যদি সত্যিই সংস্কারমুখী হতে চায়, তাহলে প্রকল্প মূল্যায়নে শুধু আর্থিক রিটার্ন নয়, প্রাকৃতিক অধিকার, সামাজিক ন্যায্যতা, জীবিকা নিরাপত্তা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ পরিচালন ব্যয়কে বাধ্যতামূলক সূচক করতে হবে।

জ্বালানি খাত : সবচেয়ে জরুরি রূপান্তর এখনো অসম্পূর্ণ

বাজেটে স্বীকার করা হয়েছে যে জ্বালানি, LNG, তেল ও রাসায়নিক সারের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশ্বের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এটিই প্রমাণ করে যে আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো আর নিরাপদ নয়। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি, ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানি, ডলারসংকট এবং উৎপাদন খরচের ব্যবধান দেশ্বের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি।

সৌরবিদ্যুৎ করমুক্তির প্রস্তাব ভালো, কিন্তু যথেষ্ট নয়। নবায়নযোগ্য শক্তির সরঞ্জাম, ইনভার্টার, ব্যাটারি, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, DC কেবল, স্মার্ট মিটার, স্টোরেজ এবং গ্রিড-সংযোগ প্রযুক্তির ওপর শুল্ক-করের বোঝা শূন্যে নামাতে পারলে কাক্সিক্ষত ফল আসবে। শুধু বড় সোলার পার্ক নয়; ছাদভিত্তিক সৌর, কৃষি সেচে সৌর, চর ও উপকূলে মাইক্রো-গ্রিড, স্কুল-হাসপাতাল সৌরায়ন, ক্ষুদ্র শিল্পের সৌরায়ন এবং কমিউনিটি-ওনড এনার্জি মডেলকে অর্থায়নের কেন্দ্রে আনতে হবে।

জ্বালানি স্বাধীনতা মানে বিদেশি জ্বালানি কম কেনা। কিন্তু জ্বালানি সার্বভৌমত্ব আরও বড় ধারণা, এটি জনগণ, প্রকৃতি ও স্থানীয় অর্থনীতির হাতে শক্তির মালিকানা ফিরিয়ে দেয়। এই বাজেটে সেই ভাষা আংশিক আছে, কিন্তু পূর্ণ কাঠামো নেই।

কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা : স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি বনাম দীর্ঘমেয়াদি জীববৈচিত্র্য ঝুঁকি

সার ও কীটনাশকে কর ছাড় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সব রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর ব্যাপক ছাড় দিলে তা মাটি, পানি, পরাগায়ণকারী প্রাণী, মাছ, জলাভূমি, জনস্বাস্থ্য এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করতে পারে। খাদ্যনিরাপত্তাকে রাসায়নিক নির্ভর উৎপাদনের সঙ্গে এক করে দেখা বিপজ্জনক। বাংলাদেশ্বের লক্ষ্য হওয়া উচিত খাদ্যনিরাপত্তা থেকে খাদ্য সার্বভৌমত্বে উত্তরণ। এর অর্থ হলো কৃষক, মাটি, পানি, বীজ, স্থানীয় জ্ঞান, জৈবসার, নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু-সহনশীল জাত এবং স্থানীয় বাজারকে একসঙ্গে শক্তিশালী করা। কর ছাড় দরকার হলে তা হওয়া উচিত প্রমাণভিত্তিক, সময়সীমাবদ্ধ, লক্ষ্যভিত্তিক এবং প্রকৃতি-স্বাস্থ্যবান্ধব। জৈবসার, কম্পোস্ট, বায়ো-পেস্টিসাইড, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, লবণসহনশীল কৃষি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং কৃষি-সৌরসমন্বিত ব্যবস্থায় আরও বড় প্রণোদনা দরকার।

জলবায়ু ও প্রকৃতি : ভাষা আছে, বরাদ্দে সাহস কম

বাজেটে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ম্যানগ্রোভ, জীববৈচিত্র্য রেড লিস্ট, নদী পুনরুদ্ধার, প্লাস্টিক দূষণ কমানো, বায়ুদূষণ মনিটরিং এবং জলবায়ু অভিযোজনের কথা বলা হয়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাস্তব ঝুঁকির তুলনায় খুবই কম। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ; উপকূলীয় লবণাক্ততা, নদীভাঙন, নগর দাবদাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, পানির সংকট, জলাভূমি ধ্বংস এবং জলবায়ুজনিত স্থানচ্যুতি এখন আর ভবিষ্যতের ঝুঁকি নয়, এগুলো বর্তমানের অর্থনৈতিক ক্ষতি। গাছ লাগানো দরকার, কিন্তু শুধু গাছ লাগানো প্রকৃতি পুনরুদ্ধার নয়। দরকার নদীকে প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া, জলাভূমি রক্ষা, বনকে জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পুনর্গঠন, শহরে জলাধার ও বৃক্ষচ্ছায়া ফিরিয়ে আনা, উপকূলে ম্যানগ্রোভ বাফার তৈরি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আগে প্রাকৃতিক অধিকার মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা। প্রকৃতি শুধু পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; প্রকৃতি হলো কৃষি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিল্প, নগর, পানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ভিত্তি।

এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা : সবুজ উৎপাদন ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই

বাংলাদেশ এলডিসি-উত্তরণের পর শুল্কসুবিধা, বাজার প্রবেশাধিকার ও নীতি-সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। বৈশ্বিক বাজারে এখন শুধু সস্তা শ্রম যথেষ্ট নয়; দরকার কম-কার্বন উৎপাদন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, ট্রেসেবিলিটি, পরিবেশগত মান, শ্রম অধিকার ও সাপ্লাই চেইন স্বচ্ছতা। বিশ্বেষ করে পোশাক, চামড়া, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং ভবিষ্যৎ ইকো-প্রোডাক্ট রপ্তানির জন্য সৌরশক্তি, পানি দক্ষতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন কমপ্লায়েন্স অপরিহার্য। এই বাজেটে রপ্তানি সক্ষমতার কথা আছে, কিন্তু প্রকৃতি-স্মার্ট উৎপাদনশীলতার রোডম্যাপ আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার। শিল্পাঞ্চলে সৌর ছাদ, বর্জ্য থেকে সম্পদ, পানির পুনর্ব্যবহার, সবুজ অর্থায়ন, কম সুদে প্রযুক্তি আপগ্রেড এবং SME-দের জন্য সবুজ কমপ্লায়েন্স তহবিল জরুরি।

করনীতি : ন্যায্যতা ছাড়া রাজস্ব সংস্কার টেকসই হবে না

কর আদায় বাড়ানো প্রয়োজন, কিন্তু কাদের কাছ থেকে এবং কীভাবে, এই প্রশ্নই আসল। করনীতি যদি ভ্যাট ও পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভর করে, তাহলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বেশি চাপ বহন করে। অন্যদিকে উচ্চ সম্পদ, জমি-স্পেকুলেশন, দূষণকারী শিল্প, অস্বচ্ছ মুনাফা, অবৈধ পুঁজি পাচার এবং অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি যদি অক্ষত থাকে, তাহলে বাজেট ন্যায্য হবে না।

বাংলাদেশ্বের দরকার তিন ধরনের কর সংস্কার : প্রথমত কর প্রশাসনের ডিজিটাল স্বচ্ছতা; দ্বিতীয়ত উচ্চ আয় ও সম্পদের ওপর ন্যায্য কর; তৃতীয়ত প্রকৃতি-ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডে দূষণমূল্য আরোপ এবং প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে কর প্রণোদনা। করনীতি শুধু রাজস্ব সংগ্রহের যন্ত্র নয়; এটি অর্থনীতির নৈতিক দিকনির্দেশনা।

বাজেটকে NRLG দৃষ্টিতে পুনর্গঠন করা দরকার

Natural Rights Led Governance বা NRLG দৃষ্টিতে বাজেটের মূল প্রশ্ন হলো : এই ব্যয় কি জীবন, প্রকৃতি, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করছে? যদি বাজেট নদী, বন, জলাভূমি, কৃষিজমি, বায়ু, মাটি ও মানুষের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তা উন্নয়ন নয়, তা ভবিষ্যৎ ব্যয়ের দায় তৈরি করে।

প্রতিটি বড় প্রকল্পে Natural Rights Impact Assessmen বাধ্যতামূলক করা উচিত। নদী, বন, জলাভূমি, উপকূল ও পাহাড়ের জন্য স্থানীয় Nature Stewardship Council গঠন করা উচিত। জলবায়ু অর্থায়ন সরাসরি কমিউনিটি, নারী, কৃষক, মৎস্যজীবী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। প্রকৃতি পুনরুদ্ধারকে শুধু অনুদানভিত্তিক কাজ নয়, জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা দরকার।

বাজেট বড় হয়েছে, এখন দর্শন বড় করতে হবে

প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা ও কিছু সবুজ রূপান্তরের সংকেত দিয়েছে। কিন্তু এটি এখনো প্রচলিত রাজস্ব-ব্যয় কাঠামোর ভিতর বন্দি। বাংলাদেশ্বের বাস্তবতা এখন এমন যে কেবল প্রবৃদ্ধি, ভর্তুকি ও অবকাঠামো দিয়ে নিরাপত্তা আসবে না।  নিরাপত্তা আসবে খাদ্য সার্বভৌমত্ব, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব, প্রকৃতি পুনরুদ্ধার, কর ন্যায্যতা, ঋণশৃঙ্খলা এবং কমিউনিটিকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে। এই বাজেটকে তাই সংশোধন করতে হবে তিনটি স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে: প্রথমত, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও রাসায়নিক কৃষির ঝুঁকি কমানো; দ্বিতীয়ত নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রকৃতি-স্মার্ট কৃষি ও জলবায়ু অভিযোজনকে মূলধারার বিনিয়োগে রূপান্তর করা; তৃতীয়ত রাজস্ব সংস্কারকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ নয়, বরং ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও উচ্চ-দূষণকারী অর্থনীতির জবাবদিহির দিকে নেওয়া। বাংলাদেশ্বের সামনে এখন পছন্দ একটাই; ঋণ, জ্বালানি আমদানি ও প্রকৃতি ধ্বংসের পুরোনো পথে হাঁটা, নাকি প্রকৃতি-নির্ভর সার্বভৌম অর্থনীতির নতুন পথ তৈরি করা। বাজেট ২০২৬-২৭ সেই রূপান্তরের দরজা সামান্য খুলেছে; এখন দরকার সাহসী নীতি, বাস্তবায়ন শৃঙ্খলা এবংNatural Rights Led Governance-ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বাজেট পুনর্গঠন।

♦ লেখক :  প্রধান নির্বাহী ও সহ-উদ্যোক্তা, চেইঞ্জ ইনিশিয়েটিভ; প্রাকৃতিক অধিকারভিত্তিক শাসন কাঠামোর উদ্ভাবক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews