ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়ার আশা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরে তিনি দেখতে চেয়েছিলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস ক্রেতা হিসেবে চীন কি তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারে কি না। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চীনকে কোনো ভূমিকায় আনাও ছিল তার ভাবনায়। তবে সফর শেষে বাস্তব চিত্র হলো—এখনো কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি বা স্পষ্ট সমঝোতা পাওয়া যায়নি।
চীনে অবস্থানকালে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চান এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক। ট্রাম্পের ভাষায়, শি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। কিন্তু একই সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে। বেইজিং বলেছে, এই যুদ্ধ শুরুই হওয়া উচিত ছিল না এবং সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত আলোচনার মাধ্যমে, নতুন সংঘাত দিয়ে নয়।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, শি জিনপিং ইরান সংকট সমাধানে সহায়তার কথা বলেছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিষ্কার করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কাছে এমন কোনো সহায়তা চায়নি।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই একমত যে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা জরুরি এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন প্রণালিতে সামরিকীকরণ বা চলাচলে টোল আরোপের বিরোধিতা করে। তবে চীনের নিজস্ব বিবৃতিতে এসব নতুন দিক তেমনভাবে উঠে আসেনি।
ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, বেইজিংকে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র–চীনের জ্বালানি বা বাণিজ্য সহযোগিতার সম্ভাবনা থাকলেও, ইরান যুদ্ধ থামাতে এই সফর এখনো কোনো বড় মোড় আনতে পারেনি। সংকটের ভবিষ্যৎ তাই আপাতত অনিশ্চিতই রয়ে গেল।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে