স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রীরা সোমবার কার্ডিফে বৈঠকে বসছেন। যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জানায়, স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী জন সুইনি, ওয়েলসের প্রথম মন্ত্রী রুন আপ আইওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী মিশেল ও’নিল বৈঠকে অংশ নেবেন। তারা অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ এবং সাংবিধানিক বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করতে পারেন। বৈঠকে সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও অংশ নেবেন।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে বলা হতে পারে, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রাখে।

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা এবং আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর মধ্যেই এই বৈঠক হচ্ছে। এর আগে শনিবার ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘একীভূত আয়ারল্যান্ড’ দেখতে চান।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চাই না। তবে আমি বলব, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই।’ তাঁর মতে, এটি শেষ পর্যন্ত ঘটবেই, তাই এখনই ঘটলে ভালো।

গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে একীভূত আয়ারল্যান্ডের অংশ হতে চান বলে মনে হলে গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে একীভূত আয়ারল্যান্ডের অংশ হতে চান বলে মনে হলে এই গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।

সুইনি রোববার বলেন, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোর নেতারা ক্ষমতায় থাকা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই প্রথম স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড—তিন দেশই স্বাধীনতাপন্থী প্রথম মন্ত্রীর নেতৃত্বে রয়েছে।’ তিনি বলেন, এতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

কার্ডিফের বৈঠকে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান সুইনি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হলে আবার গণভোট হতে পারে। তবে পরে সুইনিকে চিঠি দিয়ে তিনি জানান, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে নতুন গণভোটে সরকার সমর্থন দেবে না। তাঁর দাবি, স্কটল্যান্ডে এখনো এমন কোনো ঐকমত্য নেই। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও যুক্তরাজ্য ছাড়তে চান—এমন স্পষ্ট প্রমাণ নেই।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews