বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমির হামজা বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী। আপনি যদি বলেন, তিনি জামায়াত ইসলামীবিদ্বেষী, চরমোনাই পীরবিদ্বেষী! না, তিনি আপাদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী।
তিনি বলেন, তার (টুকুর) বক্তব্য কালকে দেখেছেন? এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে কেন, আপনি বলেন তো? মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছে, আপনি তাদের জিজ্ঞেসা করেন তারা ইসলাম বিদ্বেষী কি না। তারা ধর্ম বিদ্বেষী কি না।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে সব বদনামগুলো বাংলাদেশে ছড়ানো হয়েছে এই টুকুর কারণে।
তিনি বলেন, আপনি এখন মজমপুরের তেল পাম্পে যান, বিআরবি কেবলের তেল পাম্পে যান, মন্ডল ফিলিং স্টেশনে যান। কী অবস্থা দেখেন তো, কী হাহাকার চলছে।
আমির হামজা বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। ৫ লিটারের বেশি তেল দেয় না জেনারেটর চালাতে। কত মানুষের জীবন বিপন্ন এখন আপনি টের পাচ্ছেন। এই সব অযোগ্য মানুষগুলোকে না দিয়ে যারা যোগ্যতা সম্পন্ন, যারা দেশের মানুষের প্রতি দরদ রাখে এরকম মানুষকে যদি মন্ত্রীসভায় বসানো যেত এই হাহাকারটা লাগতো না।
এদিকে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন ৩ দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স।
তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।
হামজার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল আলম টুকু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর ভিত্তি করে। ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠীর উর্ধ্বে উঠে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি পাকিস্তান ইসলাম বিদ্বেষী ছিল? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল?
তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়নি, এখানে সব ধর্মের মানুষ সেদিন দেশকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি বলেন, আমির হামজা তো কার্যত এখন আর ইসলামী বক্তা নন, তিনি রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক বক্তাই এ জাতীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ওসব কিছু আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।