বলিউডে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন এক তরুণী। কিন্তু প্রথমেই শুনতে হয়েছিল—তাঁর মধ্যে ‘ব্যক্তিত্বের অভাব’। এয়ার হোস্টেসের চাকরিও পাননি সেই কারণে। জীবিকার তাগিদে একসময় রেস্টুরেন্টে বাসন মাজতে হয়েছে তাঁকে। অথচ সেই মেয়েটিই পরে হয়ে ওঠেন ভারতের টেলিভিশনের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন, এমনকি দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। তিনি স্মৃতি ইরানি। ২৩ মার্চ তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবনযাত্রার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ফিরে দেখা যাক।
শৈশব: দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই
১৯৭৬ সালে দিল্লিতে স্মৃতি মালহোত্রা নামে জন্ম তাঁর। তিন বোনের মধ্যে বড় তিনি। পরিবারে আর্থিক সংকট ছিল নিত্যসঙ্গী। বাবা আর্মি ক্লাবের বাইরে বই বিক্রি করতেন, মা ঘরে ঘরে মসলা বিক্রি করতেন। সীমিত আয়ে সংসার চলত কষ্টে। অর্থাভাবে কলেজ ছাড়তে হয় স্মৃতিকে, এরপর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে নানা কাজ শুরু করেন।
স্বপ্নভঙ্গের কঠিন সময়
‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন স্মৃতি, শীর্ষ দশেও জায়গা করে নেন। তবে সে পথও সহজ ছিল না—ধার করে জোগাড় করতে হয়েছিল এক লাখ রুপি। এরপর এয়ার হোস্টেস হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জীবিকার প্রয়োজনে ভারতের প্রথম ম্যাকডোনাল্ডসে ক্লিনারের কাজ নেন, মাসে পেতেন মাত্র ১,৮০০ রুপি। তবুও অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি।
ভাগ্যের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
অভিনয়ের সুযোগের খোঁজে একের পর এক অডিশন দিয়েও সাফল্য পাচ্ছিলেন না। ‘হাম পাঁচ’-এর মতো সিরিজেও জায়গা হয়নি। তবে একতা কাপুরের মায়ের নজরে পড়ে যান তিনি। তাঁর মন্তব্যেই স্মৃতির জন্য নতুন দরজা খুলে যায়। একতা কাপুর ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে সুযোগ দেন ‘কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি’ সিরিয়ালে—যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
‘তুলসী’ হয়ে ঘরে ঘরে পরিচিতি
২০০০ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজ অল্প সময়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। তুলসী বিরানি চরিত্রে অভিনয় করে স্মৃতি ইরানি রাতারাতি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অল্প বেতনের চাকরি থেকে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে টেলিভিশনের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন।
প্রত্যাখ্যান থেকে শেখা
নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতি বলেছেন, গায়ের রং, শরীর বা চেহারা নিয়ে বহুবার তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, তিনি দেখতে ভালো নন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন নিজের ভেতরের শক্তির ওপর—আর সেটিই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
রাজনীতিতে সফল পদচারণা
অভিনয়ে সাফল্যের পর রাজনীতিতেও সক্রিয় হন স্মৃতি ইরানি। ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জনপ্রিয়তা ও সংগ্রামী জীবন তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
স্মৃতি ইরানির জীবন কেবল একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি এক নারীর অবিরাম লড়াই, প্রত্যাখ্যানের পরও না হার মানার কাহিনি—যা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস।