চীনের তৈরি শত শত কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) নীরবে ইরানে পৌঁছে যাওয়া ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উচ্চঝুঁকির সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবিরাম বিমান হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো যখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, তখন বেইজিং জাঁকজমকপূর্ণ কূটনৈতিক সম্মেলন বা ভারী যুদ্ধট্যাংক নয়, বরং বহনযোগ্য স্বল্পপাল্লার প্রাণঘাতী বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। স্বল্প উচ্চতায় উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম এই গোপন প্রতিরক্ষাসহায়তা পারস্য উপসাগরে পশ্চিমা আকাশ-আধিপত্যের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন যে দ্রুত আকাশ-নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযান কল্পনা করেছিল, তা এখন পরিণত হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ও অসম যুদ্ধের এক ক্লান্তিকর লড়াইয়ে।
এই অস্ত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা নীরবে সম্পন্ন করেছে হংকংয়ে নিবন্ধিত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট, যা বেইজিংভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং গ্রুপের পক্ষে কাজ করেছে। পশ্চিম চীনের শিনজিয়াংয়ের উরুমকি থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে একটি সমন্বিত আকাশপথ এবং মধ্য এশিয়া হয়ে অতিরিক্ত রেলপথের মাধ্যমে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানে পৌঁছানো হয়। এরপর সেগুলো সরাসরি ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ইউনিটগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।