ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান ও দেশের পারিবারিক-সামাজিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ।
পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার জীবনকালীন নিরাপত্তা ও ভোগাধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবিক ও প্রশংসনীয়; কিন্ত একটি মানবিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হেবা-ফারায়েজের বিধান অক্ষুন্ন রাখার নিশ্চয়তা ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন গ্রহণযোগ্য নয়। শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া সম্পত্তি হস্থান্তর আইনের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য নয়।
খেলাফত মজলিস: খেলাফত মজরিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অধিকতর পর্যালোচনা এবং প্রকাশ্য মতামত গ্রহণ না করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল কর্তৃক পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২ এর সঙ্গে ১২২এ ও ১২২বি ধারা দু’টি সংযুক্ত করে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান নামে পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তানদের সম্পত্তি হস্তান্তরের এই নতুন পদ্ধতিতে দাতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করবেন। দাতার মৃত্যুর পূর্বে গ্রহীতা মারা গেলে সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের কাছে যাবে।
পাস হওয়া বিলটির মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহসম্মত ন্যায়বিচার ও ফারায়েজের চেতনা লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন মজলিসের শীর্ষ দুই নেতা। এই সিভিল আইনটি বাহ্যতদৃষ্টিতে সুন্দর মনে হলেও, এর মাধ্যমে একজন বা কয়েকজন উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করার হাতিয়ারও হতে পার। যার ফলে শরিয়াহ সম্মত ন্যায়বিচার ও ফারায়েজের চেতনা লঙ্ঘিত হতে পারে। সংশোধিত এ আইনের কিছু দিক হানাফি ফিকহের প্রচলিত হেবার ধারণার সঙ্গেও গুরুতর বিতর্ক সৃষ্টি করে।
সংশোধিত আইনটি শরিয়তের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি নাÑসরকার কর্তৃক তা ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা এবং প্রকাশ্যে তাদের মতামত গ্রহণ করা উচিত বলেও মšন্তব্য করেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাটির্ : ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান ও দেশের পারিবারিক-সামাজিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
দলটি বলেছে, বৃদ্ধ মা-বাবার জীবনকালীন নিরাপত্তা ও ভোগাধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মানবিক ও প্রশংসনীয়; কিন্ত একটি মানবিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর (ভারপ্রাপ্ত) আল্লামা আবদুল কাইয়ূম সোবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,হেবা, ওয়াসিয়ত ও ফারায়েজ ইসলামী শরিয়াহর পৃথক ও সুস্পষ্ট বিধান।
পবিত্র কোরআনে উত্তরাধিকারীদের অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে জীবদ্দশায় হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্যও শরিয়াহর নিজস্ব বিধান ও শর্ত রয়েছে। ফলে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন কোনো আইনি পদ্ধতি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে এসব মৌলিক বিধানের সঙ্গে এর সম্পর্ক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা অপরিহার্য।
তারা বলেন, সংসদে আইন পাসের সময় বলা হয়েছে, নতুন বিধানটি প্রচলিত হেবা, ওয়াসিয়ত বা অন্যান্য স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে না। কিন্ত শুধু আইনের উদ্দেশ্য ও ব্যাখ্যায় এ নিশ্চয়তা থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; আইনের ভাষা, বিধিমালা, দলিলের কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগেও এই সুরক্ষা সুস্পষ্ট ও কার্যকর হতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে একই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে হেবা, জীবনকালীন ভোগাধিকার এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ এসবের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, এ ধরনের আইন অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করলে পরিবারের মধ্যে সম্পত্তিকেন্দ্রিক স্বার্থের সংঘাত, সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী মামলা-মোকদ্দমা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে বয়স্ক, অসহায় কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বল ব্যক্তির ওপর পারিবারিক চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তি হস্তান্তরের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাধীন সম্মতি এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারীদের ন্যায্য অধিকারÑদুটিই সমানভাবে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।
নেতৃদ্বয় বলেন, শরিয়াহ-সংশ্লিষ্ট এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আইন পাসের আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-উলামা, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া থাকা উচিত ছিল। সংসদে আলোচনার সময়ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের কাছে বিষয়টি পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুপারিশ গ্রহণের দাবি উঠেছিল। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ না করে আইন পাস করা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে নই; বরং তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার আরও কার্যকর ব্যবস্থা চাই। একই সঙ্গে কোনো ওয়ারিশের শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার যাতে ক্ষুন্ন না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অন্য একটি বৃহত্তর ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যা তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা বলেন, বাংলাদেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর পারিবারিক জীবন, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে শরিয়াহর বিধান গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই আইনের উদ্দেশ্য মানবিক হলেও তার প্রয়োগ যেন শরিয়াহর স্বীকৃত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়Ñএটাই রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল অবস্থান হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতৃদ্বয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে পাস হওয়া আইনটির শরিয়াহগত, আইনগত ও সামাজিক প্রভাব পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে এবং বিধিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের আনুষ্ঠানিক মতামত গ্রহণ করতে হবে। হেবা ও ফারায়েজের বিধান অক্ষুন্ন রাখা এবং বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাÑএই দুই লক্ষ্যকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না বানিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়সংগত ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলাই হবে দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন :
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমীরে খেলাফত মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি ২০২৬ নামে জাতীয় সংসদে যে বিল পাস করা হয়েছে তা যেন কোরআন হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। কোরআন হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন দেশের জনগণ মেনে নেবে না। মাওলানা মিয়াজী বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর ও বন্টনের জন্য বাংলাদেশে কোরআন হাদিসের সাথে মিল রেখে অত্যন্ত সুন্দর আইন চলমান আছে। এর বাহিরে গিয়ে নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ প্রয়োজনে দেশের শীর্ষ ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ মুফতী এবং ওলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে এ বিল সংশোধন করার আহ্বান জানান। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’-এ মুসলমানদের পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধানসমূহের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।আজ সোমবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের খাস কমিটির বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী। তারা বলেন, বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ভরণ-পোষণ ও সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ইসলাম পিতা-মাতার অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই প্রবীণ পিতা-মাতার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তবে তারা বলেন, মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার, হেবা ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলো ইসলামী শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নতুন কোনো আইন বা আইনের কোনো ধারা যেন পবিত্র কোরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা বলেন, ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’-এ প্রয়োগের ক্ষেত্রে মুসলমানদের শরিয়াহসম্মত উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির মালিকানা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত জটিলতা সৃষ্টি করা যাবে না। বিশেষ করে হেবা ও মিরাসের বিধানকে পাশ কাটিয়ে এমন কোনো আইনি কাঠামো তৈরি করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ কিংবা শরিয়াহবিরোধী সম্পত্তি বণ্টনের পথ তৈরি করে।
সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট: সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান ও মহাসচিব মাওলানা হারিছুল হক আজ সোমবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার আগে জনগণের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, ক্ষমতায় গেলে কুরআন এবং সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস করবেন না। কিন্ত কার পরামর্শে এবং কোন যুক্তির ভিত্তিতে সংসদে স্পষ্ট কোরআনে বর্ণিত আইনের ব্যত্যই ঘটিয়ে সংসদে আইন পাস করলেন এটা আমাদের বোধগম্য নয়।
তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলকে ইসলাম বিরোধী কোন আইন করবে না বলে ওয়াদা করেছেন সেই জন্যেই সাপোর্ট দিয়েছিলাম কিন্ত উনারা তাদের কথা রাখছেন না। জরুরিভিত্তিতে ৯০% মুসলমানের দেশে সংসদে পাসকৃত মুসলিম বিরোধী আইনটি পরিবর্তন করে পূর্বের আইন বহাল রাখার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
নেতৃদ্বয় আইনটিকে পরিবর্তন করার আহ্বান জানান তা না হলে তিনি তৌহিদি জনতার আক্রোশে নিপতিত হবেন।
খেলাফত আন্দোলন : জাতীয় সংসদে ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি ২০২৬ নামে কোরান সুন্নাহ বিরোধী বিল পাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমিরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমী ও মহাসচিব মুফতি ফরুল ইসলাম।
নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে বলেন, পৃথীবিতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। মানুষের কিভাবে উন্নতি হবে। মানুষের ভরণ পোষণ কিভাবে হবে। পিতা মাতার দেখাশোনা ও ছেলে মেয়ের জন্য সম্পত্তি বন্টন নীতিও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআন হাদিসে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার বন্টন নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেদের বুদ্ধিমত মানুষের শুভাকাক্সক্ষী হওয়া মানে সরাসরি কুরআন হাদিসের বিরুদ্ধাচারণ করা এবং মহান আল্লাহতালার বন্টন নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পূর্বে মদিনা সনদে রাষ্ট্র চালাবেন বলে যে বুলি আউড়িয়েছিলেন সংসদে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস করে তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এবং জনগণের থেকেও নিজেদেরকে দূরে সরাচ্ছেন। দেশের ৯০% মুসলমান সরকারের কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন কখনো মেনে নেবে না।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, সরকারের দেশের আইন শৃংখলার উন্নতির দিকে বেশি দৃষ্টি দেওয়া উচিত । তা না করে কাদেরকে খুশি করার জন্য কুরআন হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক আইন পাস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। দেশের জনগন তা জানতে চায়। কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক এমন আইন না বুঝলে দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও মুফতি সাহেবদের পরামর্শ নিতে হবে।
নেতৃদ্বয় সরকারকে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী এ আইন পাস করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। নচেত দেশের মুসলমান কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আইন পাশের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন।
আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত : জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর শরিয়াহ গত দিক গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, মুফতি ও ফকিহদের মতামত গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ ও পরামর্শ ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, “বাবা-মায়ের অধিকার, সুরক্ষা, ভরণপোষণ এবং জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম পিতামাতার অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছে। ফলে তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করি না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুসলমানদের সম্পত্তি হস্তান্তর, হেবা, মিরাস ও ফারায়েজের সঙ্গে পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধান যুক্ত। ফলে এ সংক্রান্ত যেকোনো আইন প্রণয়নের আগে এর প্রতিটি ধারা শরিয়াহ ও ফিকহি ৫ নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করা জরুরি। সরকারের আশ্বাসের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে প্রস্তাবিত বিধানটি প্রচলিত হেবা বা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের কার্যকারিতা ক্ষুন্ন করবে না। আমরা সরকারের এই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছি। তবে বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি হেবা, কবজা, মালিকানা ও ফারায়েজের শরিয়াহভিত্তিক আইনের সাথে কোনো জটিলতা বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে কি নাÑতা বিশেষজ্ঞ আলেম ও ফকিহদের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে শুধু আইনবিদদের মতামতই যথেষ্ট নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, বিলটির পূর্ণাঙ্গ খসড়া দেশের শীষস্থানীয় মুফতি, ফকিহ ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে লিখিত মতামত নেওয়া হোক। পর্যালোচনায় শরিয়াহর কোনো বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তা সংশোধন করতে হবে।
মাওলানা রাব্বানী বলেন, পিতামাতার অধিকার রক্ষা এবং শরিয়াহর বিধান সংরক্ষণ দুটো পরস্পরবিরোধী নয়, বরং সম্পূরক। মুসলমানদের পারিবারিক সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে আলেম, ফকিহ ও আইনবিদদের সমন্বিত পরামর্শের মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।