ভয়াবহ বন্যার পর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া বলে ধারণা করা পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েক ডজন শ্রমিককে উদ্ধারে সোমবার (৩১ আগস্ট) জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নেপালের উদ্ধারকর্মীরা। এর মধ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযান ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা দু’টি সুড়ঙ্গ থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করেছেন। সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরের পথ কাদায় পুরোপুরি ঢেকে গেছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের কারো সাথে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে সরকার বলছে, বিভিন্ন সুড়ঙ্গের ভেতরে ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক এখনো জীবিত থাকতে পারেন।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসার পর থেকে ৯৩৩ জন পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

আপার ত্রিশূলি-৩-এ পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উদ্ধারকারীরা কাদায় ভরে যাওয়া সুড়ঙ্গের ওপরের অংশে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এরপর ভেতরে বাতাস পাঠানো হয় এবং ড্রিলিং ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে নিচের দিকে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়।

রোববার রাতে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দড়ি ব্যবহার করে নিচে নেমে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ডাক দেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’

নেপাল সেনাবাহিনী সোমবার সকালে জানিয়েছে, ‘সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে পানি, কাদা ও পলি সরানোর কাজ চলছে।’

উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দলও সহায়তা করছে।

অন্য একটি স্থাপনা আপার ত্রিশূলি-১-এ চীনা একটি উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের প্রায় ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায় এবং একটি লাশ উদ্ধার করে বলে নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

চিলিমে পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে ভারতীয় উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। তারা প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করলেও পরে দেখতে পায় সুড়ঙ্গটি বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপাল সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আরো ভেতরের অংশ কাদা ও মাটিতে চাপা পড়ে আছে। অভিযানের সময় দু’টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টসহ বিভিন্ন উঁচু পর্বতে নিয়মিত উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া নেপালের বিশেষজ্ঞ পর্বতারোহী উদ্ধারকারী দলও এই অভিযানে যোগ দিয়েছে।

ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষকে সহায়তা দিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বন্যায় বহু সড়ক ভেঙে গেছে এবং সেতু ধ্বংস হয়েছে।

সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কি এএফপিকে বলেন, ‘তল্লাশি, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সড়কপথে অথবা হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারকারী দল এখন বেশিভাগ এলাকায় পৌঁছাতে পেরেছে। মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখনো আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ১১টি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ।

এছাড়া নির্মাণাধীন আরো ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের পরিকল্পিত মোট উৎপাদনক্ষমতা ৪৭০ মেগাওয়াট।

সূত্র : বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews