যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের বাড়তি দাম কমাতে বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৬ আগস্ট) নতুন এক ঘোষণায় গরুর মাংসের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের টুকরার জন্য শুল্ক-সুবিধাপ্রাপ্ত আমদানির পরিমাণ অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিমা করা গরুর মাংসের দাম কমানো। নতুন এই সুবিধা ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং তিন ধাপে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় ধাপে ৩১ অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাকি ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা যাবে। বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগেই আমদানি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।

এই অতিরিক্ত আমদানি সুবিধা মূলত ‘লিন বিফ ট্রিমিংস’ বা তুলনামূলক চর্বিহীন মাংসের টুকরার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব মাংস সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে কিমা করা গরুর মাংস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের বরাদ্দটি নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের জন্য নয়, বরং ‘অন্যান্য দেশ বা অঞ্চল’-এর জন্য রাখা হয়েছে।



ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। যদিও জুলাইয়ে গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে, খরা, দাবানল এবং খাদ্য ও চারণের সংকটের কারণে খামারিদের ওপর চাপ এখনো রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির খামারগুলোতে গরু ও বাছুরের মোট সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে মাংস উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম। ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদনের হিসাবও আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ২৫ লাখে দাঁড়িয়েছে।

এই সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃত কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে চলতি বছর দেশটির গরুর মাংস উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কমতে পারে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান মাংসের দামকে উঁচুতে রাখছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও গরুর মাংসের দাম কমাতে আমদানির সুযোগ বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় আর্জেন্টিনা থেকে চর্বিহীন গরুর মাংসের টুকরা আমদানির জন্য ২০২৬ সালের কোটা ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাড়ানো হয়। তবে বুধবার ঘোষিত নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের সুবিধা ওই আর্জেন্টিনা-নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দাম কমানোর একটি শর্তও যুক্ত করেছে প্রশাসন। কৃষিমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমদানিকৃত চর্বিহীন মাংস বাজারদরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি দেখা যায়, অতিরিক্ত কোটার আওতায় আসা মাংস ওই হারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পকে জানাতে হবে। এরপর অবশিষ্ট আমদানি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমদানির মাধ্যমে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পান, আবার যুক্তরাষ্ট্রের গরু পালনকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপও না পড়ে। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন আমদানি ব্যবস্থা সাময়িকভাবে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়াবে এবং দেশীয় খামারিরা নিজেদের গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন।

তবে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের গরু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি করেছে। গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশি মাংসের প্রবেশ বাড়লে দেশীয় খামারিরা দামের দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা ও যুক্তিসংগত দামের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মেক্সিকো থেকেও জীবন্ত গরু আমদানির ওপর সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামে একটি পরজীবী রোগের বিস্তার ঠেকাতে মেক্সিকো থেকে জীবন্ত গবাদিপশু প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে খরা ও দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ তাই একদিকে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য গরুর মাংসের দাম কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দেশটির দীর্ঘদিনের গবাদিপশু সরবরাহ সংকট সাময়িকভাবে সামাল দেওয়ার উদ্যোগ। আগামী কয়েক মাসে আমদানি বাড়ার পর বাজারে কিমা করা গরুর মাংসের দাম কতটা কমে, সেটিই এখন এই নীতির সাফল্য পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ও ফক্স বিজনেস।

আরটিভি/ এসকেডি







আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে





আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews