মেক্সিকো। ফুটবল নিয়ে পাগলপারা এক দেশের নাম। ফুটবল সামনে এলে দেশটি সব ভুলে যায়। মেতে ওঠে ফুটবল নিয়ে। এ দেশেই আজ বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে (রাত ১টায়) শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ঠিক এ দৃশ্যই দেখেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকো ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ। সে বছর ১১ জুন জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছিল দুই দল।
উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা অতীতে তিনবার হয়েছে বিশ্ববাসীর। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে। এ দুবারই আজটেকা স্টেডিয়ামে হয়েছে ফাইনাল। প্রথমবার ব্রাজিল ইতালিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পরের বার আর্জেন্টিনা জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। তিনবারই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। খেলা চলে মধ্য রাতে, ভোরে কিংবা সকালে। আগামী প্রায় দেড় মাস রাতের ঘুম দিনের জন্য জমিয়ে রাখতে হবে ফুটবলপ্রেমীদের। অনেকে হয়তো সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে নেবেন রাতের ম্যাচ দেখার জন্য! এখন অবশ্য টিভি সেটের সামনে বসে খেলা দেখার বাধ্যবাধকতা নেই। মোবাইল অ্যাপেই দেখা যাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ।
রাতের ঘুম কেড়ে নিতে বিশ্বকাপের সূচনা করছে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালে মেক্সিকো জয় না পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজেদের মাটিতে এবার ছেড়ে কথা বলবে না তারা। বিশেষ করে আজটেকা স্টেডিয়ামে! এই মাঠ মেক্সিকোর ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র। পুরো মেক্সিকোই এখানে ফেটে পড়বে আজ রাতে। অবশ্য মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ শেষ হওয়ার রেশ শেষ না হতেই আরেকটি ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিতে হবে ফুটবলপ্রেমীদের। কাল সকাল ৮টায় মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার অ্যাকরন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম শক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপিয়ান দল চেক প্রজাতন্ত্র। গতবার নকআউট পর্বে খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালকে হারিয়েছিল দলটি। এবার ইউরোপের আরেকটি দলকে শিকার করতেই পারে কোরিয়ানরা! চেক প্রজাতন্ত্র শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছে ২০০৬ সালে। দুই দশক পর বিশ্বকাপে এসে কতটা লড়াই করতে পারবে তারা? তবে মনে রাখতে হবে, চেকোস্লোভাকিয়া হিসেবে দুবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে দলটি।