বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। আরকেটির ভাবনাতেও নেমে পড়েছে দলগুলো। কিন্তু গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখনও পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশকে। যেখানে হতে পারত বিশ্বকাপের বছর, সেটি এখন কাঁটার মতো বিঁধছে বিশ্বকাপ না খেলার বছর হয়ে। তবে সেসব আলোচনা, বিতর্ক পেছনে ফেলে বছরের চতুর্থ মাসের শেষ দিকে এসে অবশেষে এই সংস্করণে মাঠে নামতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ দল। সে লক্ষ্যে আজ চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে লিটন কুমার দাসের দল মুখোমুখি হবে ‘নতুন’ এক নিউজিল্যান্ডের। আজ তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ২টায়।
নতুন বছরে দল নামবে নতুন জার্সি গায়ে। সঙ্গে আছে নতুন ভাবনাও। গত বছর এই সংস্করণে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ দল। তবে এখন যেহেতু বিশ্বকাপ বেশ দূরে, টি-টোয়েন্টিতে নতুন ক্রিকেটার ও নতুন কৌশল বাজিয়ে দেখবে দল। সেই দৃষ্টিভঙ্গির ছাপ দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড বাছাইয়েও। টি-টোয়েন্টিতে দলের সবচেয়ে বড় তারকা মুস্তাফিজুর রহমান ও অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। গতি তারকা নাহিদ রানাকেও রাখা হয়নি। সুযোগ দেওয়া হয়েছে উঠতি দুই পেসার রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে। তবে সেসব ছাপিয়ে গতকাল সিরিজ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে প্রথম প্রশ্নটিই ছিল সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে।
সাগরিকায় লিটনকে জিগ্যেস করা হয়েছিল, বিশ^কাপ আসরে খেলতে না পারার সেই আক্ষেপ থেকে আপনারা কি বেরুতে পেরেছেন? উত্তরটা শুনুন অধিনায়কের মুখ থেকেই, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয়, মুভ অন করেছে। বিশ্বকাপের ওই সময়ে আমরা একটা টুর্নামেন্টও খেলেছি, সেখানে খেলোয়াড়েরা চেষ্টা করেছে ভালো খেলার।’ নতুন করে তারা ভালো করবেন এই আশাও জানিয়েছেন অধিনায়ক, ‘এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, প্রতিটি ম্যাচই প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, তারা ওভাবে চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয়, যে জেতার মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দুই বছরের জন্য অধিনায়ক ছিলেন লিটন। এবারও দুই বছরের জন্য দায়িত্বটা এসেছে তার কাঁধেই। সর্বশেষ বিশ্বকাপটা হয়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। সেটিকে কেন্দ্র করেই দল গড়েছিলেন লিটন। ২০২৮ সালের বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। যেখানে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার বাংলাদেশের লাগবেই। লিটন জানালেন, ওখানকার কন্ডিশন ভাবনায় রেখেই তারা দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। সেটির জন্যই এখন থেকে থেকে দল গোছানোর লক্ষ্য তার, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ, আমরা জানি, এটি এশিয়ায় হবে না। ওভাবে চিন্তাভাবনা করব। আর অবশ্যই যেহেতু আমাদের একটা বন্ডিং হয়েছিল খুব ভালো, সর্বশেষ বিশ্বকাপের প্রস্তুতটাও খুব ভালো ছিল। চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন এই দলকে ভালো করে ধরে রাখা হয়। যেহেতু বিশ্বকাপ অনেক দেরি, ক্রিকেটারগুলোকে গড়ে তোলার জন্য এখনও যথেষ্ট সময় আছে। ম্যাচ খেলানোর জন্য এটা একটা ভালো সুযোগ।’
প্রথম সিরিজটা লিটন শুরু করছেন একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েও। দুই অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান নেই তার দলে। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন দুই নতুন মুখ আব্দুল গাফফার ও রিপন মন্ডল। লিটন জানালেন তাদের দলে নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতের ভাবনা থেকেই, ‘আমি চাই না যে তারা (তাসকিন ও মুস্তাফিজ) নিয়মিত ক্রিকেট খেলে চোটে পড়ে শেষ হয়ে যাক। কারণ, সামনে ওয়ানডেতে অনেক খেলা আছে, টেস্টও আছে। এসব চিন্তা করেই কিছু জিনিস বদলাচ্ছি।’ সাকলাইনকে দলে নেওয়ার পেছনে শুধু তার বোলিংই নয়, ভাবনায় আছে তার ব্যাটিংও, ‘যেহেতু আমাদের একটা বন্ডিং হয়েছিল খুবই ভালো, গত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও খুব ভালো ছিল, চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন দলটাকে ভালো করে ধরে রাখা যায়।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ ফিরছে ৫ মাস পর। সামনে বিশ্বকাপ নেই বলে এই বছর খুব বেশি টি-টোয়েন্টি নেই বাংলাদেশের। তবে যে সিরিজগুলি আছে, সবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে। লিটনের মতে, দলটাকে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এই সিরিজগুলো, ‘অনেকদিন পর আমরা আবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট খেলছি। প্রথম দিকে আমরা কোনো বাড়তি চাপ দিতে চাচ্ছি না। দুই-একটা ম্যাচ খেললে যে যার জায়গা থেকে অটোমেটিক বুঝতে পারবে। কারণ এখানে সেটআপেরও বিষয় আছে। ভালো দিক হলো, এই বছরের তিনটি সিরিজই ভালো দলের সঙ্গে এবং ব্যাক টু ব্যাক সিরিজ আছে। এটা একটা ইতিবাচক ব্যাপার যে, একবার খেললে পরের সিরিজটাও আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যাবে।’
লিটন যেভাবে বলেছেন, ততটা পিঠেপিঠি অবশ্য নয় সিরিজগুলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জুনে, ভারতের বিপক্ষে সিরিজটি সেপ্টেম্বরে। এর ফাঁকে অন্যান্য সংস্করণে সিরিজ আছে দেশের ভেতরে ও বাইরে।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং
বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড
৯ ৪
মুখোমুখি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড টাই/পরি
২০ ৪ ১৫ ০/১
বাংলাদেশে ৩ ৩ ০/০