ইসলামাবাদ,১০ সেপ্টেম্বর- ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের রিয়াদবিরোধী হামলা বেড়ে যাওয়ায় তেহরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ। সৌদি আরবে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে নিজেদের মিত্র হুতিদের অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যাতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেই লক্ষ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের সমন্বয়ে এই ত্রিপক্ষীয় বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় হুতি। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি ভূখণ্ডে চালানো বড় হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

এই হামলার পরপরই সৌদি বিমান বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ৫৪টি বিমান হামলা চালায়। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই হামলার জবাব না দিয়ে বা শাস্তি না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে থাকা একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, তিন দেশের চুক্তির মূল ভিত্তি হলো, যেকোনো এক দেশের ওপর অন্যায় আক্রমণ বা সেই দেশের ভূখণ্ডে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষায় নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখলেও সরাসরি ইয়েমেনের মাটিতে যুদ্ধে জড়াবে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের মূল কৌশল হলো, কোনো সেনা ইয়েমেনের সীমানায় না পাঠিয়ে শুধু সৌদি ভূখণ্ডে অবস্থান করে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া।

যদিও ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বলা হয়েছে, হুতিদের ওপর তাদের কোনো সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নেই, তবুও গোয়েন্দা সূত্র ও বেশ কিছু অনানুষ্ঠানিক তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহের দিকে তেহরানের উচ্চপর্যায় থেকে হুতিদের সৌদি আরবে হামলা আরও জোরদার করতে বলা হয় এবং এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত অর্থ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

এমনকি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন অধিনায়কও হামলা সমন্বয় করতে ইয়েমেন সফর করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কড়া পোর্ট ব্লকেডের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপের উল্টো প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে গিয়ে তেহরান বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে আরও কাছাকাছি এনে দাঁড় করাচ্ছে।

এস এম/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews