পরশু রাত পর্যন্ত মিরপুর স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারির দেয়ালের শোভাবর্ধন করেছিল নির্বাচনের প্রার্থীদের বড় বড় ব্যানার। গতকাল সকালে সেসব উধাও। সেখানে এখন ঝুলছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের বড় ফেস্টুন। মেহেদি হাসান মিরাজ ও জশ ইংলিশের ছবি সাঁটানো ফেস্টুনটিই জানাচ্ছে, তিনটি ওয়ানডে খেলতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এখন ঢাকায়। অথচ ২৪ ঘণ্টা আগেও সিরিজ নিয়ে ছিল না কোনো আলোচনা। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছিল বিসিবির নির্বাচন। নির্বাচন শেষ। তামিম ইকবাল নতুন সভাপতি। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন মেহেদি হাসান মিরাজরা। এরপর চট্টগ্রামে খেলবেন তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। বিশ্বচাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এমন এক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসছে, যখন গোটা বিশ্ব মেতে আছে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায়। বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরাও মেতে আছেন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কি এই উন্মাদনার বাইরে? তবে ফুটবলকে পেছনে ফেলে মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানাদের মস্তিষ্কের পুরোটা এখন শুধু অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। যা মাঠে গড়াচ্ছে আজ বেলা ১১টায়। দুই দিন পরই বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দ উঠছে। এর মাঝে ওয়ানডে সিরিজ জমবে কিনা তা দেখার বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে খেলেছে ১৯৯০ সালে। ‘মরুশহর’ শারজাহতে দুই দেশ প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল। সর্বশেষ খেলেছে ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। দুই দল আজ পরস্পরের বিপক্ষে ২৩ নম্বর ম্যাচ খেলবে। সিরিজ খেলবে পঞ্চম। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল ২০১১ সালে। সেবার সিরিজটিতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টাইগাররা। ১৫ বছর পর ঘরের মাটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ফের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। সিরিজ নিয়ে মিরাজ বাহিনী ভীষণ উত্তেজিত। মিডিয়ার মুখোমুখিতে উত্তেজনার কথা লুকোননি টাইগার অধিনায়ক মিরাজ, ‘অবশ্যই আমরা পুরো দল উত্তেজিত। কেননা দীর্ঘদিন (১৫ বছর) পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলব। আমরা সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত।’ ২০১১ সালে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। দেশসেরা অলরাউন্ডার এখন ক্রিকেটের বাইরে। টাইগার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক এখন মিরাজ। তার নেতৃত্বে সর্বশেষ দুটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। হারিয়েছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরাজ নিজেও অধিনায়ক হিসেবে উত্তেজিত, ‘একজন অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ খেলব ভেবে আমিও উত্তেজিত।’
২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে এখন ৯-এ অবস্থান করছেন মিরাজরা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারালে ইংল্যান্ডকে টপকাবে না, কিন্তু ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে। প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এসেছে নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডকে ছাড়া। দুজনই ম্যাচ উইনার। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে হেডের অবদান ছিল নজর কাড়া। মার্শ এখন অধিনায়ক। আজ ও কালের মধ্যে মার্শ ঢাকায় পা রাখবেন। হেড হয়তো টি-২০ সিরিজ খেলবেন। দুই ম্যাচ উইনারকে ছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শক্তি কমেছে নিঃসন্দেহে। তারপরও সিরিজটি অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেন মিরাজ, ‘মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড না থাকলেও অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল। আমার মনে হয়, আমাদের জন্য এটা একটা ভালো চ্যালেঞ্জ হবে। অবশ্য শুরুটা যদি ভালো হয়, তাহলে ভালো করতে পারব।’
ঘরের মাঠ। উইকেটের সুবিধা নিতে চাইবে মিরাজ বাহিনী। যদিও পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে সিরিজ জিতেছে। সিরিজ দুটিতে পেসাররা খুবই ভালো বোলিং করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কি এবারও স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হবে? নাহিদ রানার মতো স্পিডস্টার, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামদের মতো কুইক পেসার রয়েছেন। বিশেষ করে সর্বশেষ সিরিজ দুটিতে গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষদের বিধ্বস্ত করেছেন নাহিদ। এবারও অধিনায়ক মিরাজের ‘তুরুপের তাস’ নাহিদ রানা। অথচ তার ক্যারিয়ার নিয়মিত ছিল না। মিডল অর্ডার ব্যাটিং লাইন শক্তিশালী করতে চার বছর পর দলে নিয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করেই সুযোগ পেয়েছেন। তার অন্তর্ভুক্তি দলের মিডল অর্ডার শক্তিশালী করবে বলেন টাইগার অধিনায়ক, ‘মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলেছেন। এ ছাড়া মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহানরা ভালো খেলেছেন। লিটন জাতীয় দলে ভালো খেলছেন। তারা অনেক অভিজ্ঞ। এরা যদি একসঙ্গে খেলেন, তাহলে খুবই ভালো হবে।’ মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা হৃদয় প্রিমিয়ার ক্রিকেটে মোহামেডানের পক্ষে দারুণ খেলেছেন। তিনি ৫ নম্বরেই ব্যাটিং করবেন জানান টাইগার অধিনায়ক।
প্রচণ্ড গরম। আবহাওয়া জানাচ্ছে, আর্দ্রতা থাকবে বেশ। গরম অনুভূত হবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। ফলে খটখটা আবহাওয়াতেই খেলবে দুই দল।