কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে মেমোরি চিপের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নিজেদের জনপ্রিয় কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অ্যাপল তাদের ম্যাক ও আইপ্যাড সিরিজের বিভিন্ন মডেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। কোম্পানিটির জনপ্রিয় কয়েকটি মডেলের দাম ২০ শতাংশ বা তারও বেশি বেড়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকবুক এয়ারের বেস মডেলের দাম ১,০৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৯৯ ডলার হয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার বেশি।

ম্যাকবুক প্রোর এন্ট্রি-লেভেল সংস্করণের দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৯৯ ডলারে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বেশি।

এছাড়া আইপ্যাড এয়ারের প্রারম্ভিক মূল্য ৫৯৯ ডলার থেকে ৭৪৯ ডলারে এবং আইপ্যাড প্রোর দাম ৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,১৯৯ ডলার হয়েছে। নতুন ম্যাকবুক নিওর মূল্য ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৬৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ম্যাক স্টুডিও এম৩ আল্ট্রা ডেস্কটপ কম্পিউটারের। এর মূল্য ৩,৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫,২৯৯ ডলার।

অ্যাপল জানিয়েছে, চিপের বাড়তি দাম থেকে এত দিন গ্রাহকদের সুরক্ষা দিলেও এখন দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

কোম্পানিটির ভাষ্য, এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। এত অল্প সময়ে উপাদানগুলোর দামে এত বড় বৃদ্ধি আগে কখনও দেখা যায়নি।

দাম বাড়ানোর এ ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে অ্যাপলের শেয়ারের দর ৬ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর এটিই অ্যাপলের শেয়ারের সর্বোচ্চ পতন।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূল্য বৃদ্ধি অ্যাপলের বিক্রিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামের জন্য জনপ্রিয় হওয়া ম্যাকবুক নিও এখন প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর দামের কাছাকাছি চলে গেছে।

এদিকে, মাইক্রোসফটও চিপের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে তাদের এক্সবক্স গেমিং কনসোলের ৫১২ গিগাবাইট ও ১ টেরাবাইট মডেলের দাম যথাক্রমে ১০০ ও ১৫০ ডলার বাড়িয়েছে।

রেডমন্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আশা করেছিলাম, আর দাম বাড়াতে হবে না। এ জন্য কয়েক মাস ধরে সরবরাহকারীদের সঙ্গে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কনসোলের স্টোরেজ ও মেমোরির দাম আড়াই গুণেরও বেশি বেড়েছে। এটি ২০২৭ সাল নাগাদ আরও দ্বিগুণ হতে পারে।’

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান উপাদান সংকটের প্রভাব পুরো ভোক্তা ইলেকট্রনিকস শিল্পে পড়লেও গেমিং কনসোল খাত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews