প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া সন্তান জন্ম দেওয়া এবং স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্র করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান স্ত্রী। এটি কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প নয়, চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য লড়াই। 

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে অবশেষে নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর শেয়ার করা ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও এ মুহূর্তে চীনজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন লি পিং। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার। 

ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে উপস্থাপন করেন। লির দাবি, ঝাং মূলত তার আর্থিক প্রতিপত্তি দেখেই সুপরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন।

ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন লি এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার নাম করে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। খুশিতে লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন এবং ওই বছরের এপ্রিলেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। 

কিন্তু বিয়ের ঠিক পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনা। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য বেঁচে যান লি। 

এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্স ভালো দেখানোর অজুহাতে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই নিজের সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান ঝাং। 

পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন। 

পরবর্তী তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, বিয়ের পর দিন লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগীর হাত ছিল। লি বলেন, ‘সে কেবল টাকা চুরি করলেই আমি হয়তো এতটা পেছনে লাগতাম না। কিন্তু সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল, যাতে স্ত্রী হিসেবে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’ 

প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেই ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে সন্ধান মেলে ঝাং ও তার সন্তানের। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়, ওই সন্তান লির নয়। 

অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুটা সহজ ছিল না। ঝাং তখনো লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। 

অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। 

ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লি পিং।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews