ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি (সহসভাপতি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেছেন, ক্যাম্পাসে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে পারছে না। আমাকে যারা ভোট দিতে চান, তারা সবাই পরিবর্তন চান।

যদি নির্বাচিত হই, অবশ্যই চিন্তার কাঠামোগত দিক পরিবর্তনের পাশাপাশি একাডেমিক দিকে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। ডাকসু নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নির্বাচন পরিস্থিতি, নির্বাচন অনুষ্ঠানে চ্যালেঞ্জ, একাডেমিক নানা সংস্কার, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিত, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবির।

উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে আমার কাজ হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিকেলি সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া। পরবর্তী একবছর পর যখন আবার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আসবেন, তারাও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। নির্বাচিত হলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে কাজ করব। ক্যাম্পাসকে সম্প্রীতি ও স্টুডেন্টবান্ধব করে গড়ে তোলাই হবে আমার অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে সবসময় ছাত্র রাজনীতির নতুন কাঠামো তৈরি করার চিন্তা করেছি। এর আগে ক্যাম্পাসে আমরা বিজ্ঞান চিন্তা নামে একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছিলাম। সেখানে প্রতি মঙ্গলবার নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আলাপ করতাম। কীভাবে নতুন একাডেমি তৈরি করা যায়; কীভাবে একটু পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়-এসব নিয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক করতাম। পুরোনো জিনিস ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা আমি ছাত্র সংগঠন-ছাত্র ফেডারেশন থেকেই পেয়েছি। এছাড়া মেয়েদের সবসময় একমুখী তথা রান্নাঘরমুখী করে রাখার চেষ্টার বিষয়টি আমি উপলব্ধি করেছি। সেখান থেকেই আমার ভেতরে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার অনুপ্রেরণা জাগ্রত হয়েছে।’

ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমার প্রত্যাশা ছিল, প্রত্যেকটি ছাত্র সংগঠন পুরোনো ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নতুন কাঠামোর দিকে এগুবে। কিন্তু নতুন মোড়কে পুরোনো ব্যবস্থাকে ধরে রাখার একটি আকাঙ্ক্ষা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়ে গেছে। ছাত্র রাজনীতি সংস্কার না হওয়ার পেছনে বড় ফ্যাক্টর হলো ছাত্রশিবির। আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিবির ক্যাম্পাসগুলোতে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। তাদের উচিত ছিল প্রত্যেকটি সদস্যকে রিভিল (প্রকাশ্য) করা। যুগান্তকারী সংস্কার না হওয়ার পেছনে এটাও দায়ী।’

নিজের জন্য ভোট চেয়ে উমামা বলেন, ‘আমি বাদে অন্য যেসব প্রার্থী নির্বাচন করছেন, তারা সবাই কোনো না কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফলে তাদের দ্বারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার সেই পুরোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি ফিরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

নির্বাচনের আগে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে অনেকের পরীক্ষা পড়েছে। এতে ডাকসুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা। তাই ভোটের তারিখের সঙ্গে পরীক্ষার তারিখের সমন্বয় আনতে হবে।’ উল্লেখ্য, তফশিল অনুযায়ী আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

উমামা ফাতেমা আরও বলেন, ‘নারী প্রার্থীদের সাইবার বুলিং ও হয়রানি রোধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলেও প্রশাসন তা করেনি। এখন নির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ সাইবার সেল গঠনের দাবি জানাচ্ছি।’ ডাকসু নির্বাচন আদৌ হবে কিনা-এ প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই। এ প্রসঙ্গে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘এ নিয়ে যেমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আছে, তেমনি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও রয়েছে পরাজয়ের আশঙ্কা। কারণ এবারের নির্বাচনে বহু স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। অনেক হলে কোনো নির্দিষ্ট প্যানেল নেই, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নানা পদে প্রার্থী হয়েছেন। ফলে অনেকে পেছন থেকে নির্বাচন আটকানোর চেষ্টা করছেন।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews