নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং মালামাল নিয়ে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও হয়েছেন নিশাত আক্তার (৩০) নামের এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

রোববার (২৮ জুন) এ ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিশাতের মা মোসা. নাজমা আক্তার (৬০)।

অভিযুক্ত মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) চাটখিল দক্ষিণ বাজারস্থ নোমান হাসপাতালের পেছনের মিজি বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাটখিলে থাকার সুবাদে নিশাত আক্তারের সঙ্গে গোপনে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

নিশাত আক্তার উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিশাত আক্তারের স্বামী একজন কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।

নিশাতের মা দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।

মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে আগের কাবিননামা বাতিল করে নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আটক করতে এবং নিয়ে যাওয়া নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, তিনি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদটি জেনেছেন। তবে কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews